পাথেয় রিপোর্ট : বিএনপি যদি এখন জামায়াতকে ত্যাগ না করে তাহলে রাজনীতির মাঠ থেকে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো এ সংসদের মাধ্যমে জামায়াতকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি যদি এখন জামায়াতকে ত্যাগ না করে, তাহলে তারা চিরদিনের জন্য রাজনীতির মাঠে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আর তারা রাজনীতির মাঠে আসতে পারবে না।
মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দ্বিতীয়
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, সেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা করে যাচ্ছি। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করে অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে ভোট দিয়েছে।’
আজকের বাংলাদেশের রাজনীতি প্রায় বিরোধীদল শূন্য। এর জন্য একমাত্র দায়ী বিএনপি। আজকে বিএনপির ভুলের জন্য, জামায়াতকে তাদের সঙ্গ দেওয়ার জন্য, রাজনীতিতে উসকানি দেওয়ার জন্যে দেশবাসীকে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মোহাম্মদ নাসিম।
জামায়াত ইসলামীকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে বিএনপির এই অবস্থা মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলহীন রাজনীতির জন্য দায়ী বিএনপি নিজেই। সাম্প্রদায়িক শক্তি জামায়াতকে প্রশ্রয় দেওয়ায় তাদের এই অবস্থা। এবারের নির্বাচনে নারী-পুরুষ সবাই অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। জামায়াতকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপিকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, তারা জামায়াতের সঙ্গে আছে কিনা। নাহলে তারা চিরদিনের জন্য আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
সংগঠনের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


