পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মেদান শহরের একটি তালাবদ্ধ দোকানঘর থেকে ১৯৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ।যে দোকানটি থেকে এসব মানুষকে আটক করা হয়েছে, সেটি একটি দোতলা পরিত্যক্ত দালান। অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায় এসব মানুষ কয়েক মাস ধরে ওই দালানটিতে বসবাস করছিল বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।
মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রলোভনে তাদের সেখানে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিবাসন কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে পর্যটন ভিসায় বালি ও ইওগেকার্তা শহর হয়ে তারা ইন্দোনেশিয়ায় ঢুকেছেন।
মেদান ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান ফেরি মোনাং সিথি জানান, গত মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে পুলিশ এসব অবৈধ অভিবাসীকে আটক করে। তাদের অধিকাংশের বয়সই ২০ বছরের কাছাকাছি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশ থেকে নৌকায় করে ইন্দোনেশিয়ায় এসেছে। আটকের সময় তাদের কেউ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। আমরা এখনো তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের ফেরত পাঠানো হবে কিনা তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খবরে আরও জানানো হয়, যে ভবনটি থেকে তাদের আটক করা হয়েছে, সেটির মালিক কে তা এখনো জানা যায়নি।
বুধবার রাতে যখন তাদের উদ্ধার করা হয়, তখন সবাই সুস্থ ছিলেন। এরপর তাদের অভিবাসী আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো প্রক্রিয়া চলছে।
আটকদের একজন ৩৯ বছর বয়সী মাহবুব বলেন, গত তিন মাস ধরে তাদের কয়েকজনকে এভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। সবাই প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভবনের ভেতর থেকে সন্দেহজনক শোরগোলের খবর পাওয়ার পর স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। উদ্ধার হওয়ার এসব লোকজন রোহিঙ্গা নন বলে জানিয়েছেন মেনাং সিহিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইন্দোনেশিয়া থেকে হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই আফগানিস্তানের নাগরিক ও মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা।


