পাথেয় রিপোর্ট : বৃষ্টিস্নাত দিন। এর মধ্যেই দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা শুরু হয়েছে আজ। এ ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। সে কারণেই দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে এসেছেন তাবলিগের নবীন-প্রবীণ মিলে ৩৩ মুরব্বির এক প্রতিনিধিদল।
এর আগে শনিবার সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হযেছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে অংশ নেন মাওলানা জুবায়েরপন্থীরা। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় ওঠে লাখ লাখ হাত। অংশ নেয়া মানুষের আশা, সব ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে যাবে ইসলাম প্রচারের কাজ।
শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে বিমানবন্দরসংলগ্ন হজ ক্যাম্পে এসে পৌঁছেছে প্রতিনিধিদলটি। নিজামুদ্দিনের এসব মুরব্বিই দ্বিতীয় ধাপের এ ইজতেমায় বয়ান ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুপস্থিতিতে এ ইজতেমায় আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা শামীম আহমদ।
সূত্রের খবর, এই পর্বের ইজতেমায় মাওলানা সাদ না এলেও তার বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভীর আসার কথা রয়েছে। মাওলানা শামীম আহমদ ছাড়াও এ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত আলেম ইউসুফ সালানির সন্তান মাওলানা ইয়াকুব।
এ ছাড়া আরও যারা থাকছেন- মাওলানা শওকত, মাওলানা ওমর মালিক, মুফতি শেহজাদ, মাওলানা হাশিম বিন শামীম, মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা জুয়ারুল হাসান, মিয়াজি মাওলানা ফুল, মুফতি শরিফ, মাওলানা জামসিদ, মুরসালিন প্রমুখ।
এ ছাড়া ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের তাবলিগ দায়িত্বশীলদের মধ্য থেকে অনেকেই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মাওলানা নাফিস, মুফতি আবদুর রহিম, শায়খুল হাদিস আবদুর রশিদ, মাওলানা আবদুল হান্নান, মাওলানা শামসুর রহমান, মাওলানা গাজাইল, প্রফেসর আবদুল আলিম, শায়খ ইলিয়াস (বাড়াবাকিং), শায়খ আলাউদ্দিন (মেওয়াত) এদের মধ্যে অন্যতম।
এদিকে রোববার ফজর নামাজের পর তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে দুদিনের এ ইজতেমা শুরু হয়। বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল্লাহ মুনসুর। আগামীকাল সোমবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাবলিগ জামায়াতের সবচেয়ে বড় এ জমায়েত।
সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শামিয়ানা চটের হওয়ায় অনেকেরই মালামাল ও বিছানা ভিজে গেছে। অনেকেরই মালামাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা গেছে।
কেউ কেউ চটের শামিয়ানার নিচে পলিথিন টানিয়ে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ইজতেমায় আগত বয়স্ক মুসল্লিরা বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বৃষ্টি হওয়ায় শীতও বেড়েছে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে মুসল্লিদের জবুথবু হয়ে বসে জিকির আজগার করতে দেখা গেছে।
ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা সাধারণত ইজতেমা ময়দানের উন্মুক্ত স্থানে রান্নাবান্না করে থাকেন। বৃষ্টির কারণে তাদের রান্না করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার কার্যক্রম।


