‘আইএস বধূ’ শামীমার শিশু সন্তানটি আর নেই
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একজন নবজাতক মারা যাওয়ার খবরও ভাইরাল। কারণ আইএস বধূ শামিমা বেগমের বাচ্চা। তার গর্বে ধারণ করাটাই একটা বড় চমক। মিডিয়াতাণ্ডবের শিকার এই নবজাতকও। ব্রিটেন থেকে পালিয়ে সিরিয়া চলে যাওয়া ইসলামিক স্টেটের জিহাদি-বধূ শামীমা বেগমের কিছুদিন আগে জন্মানো শিশু সন্তানটি মারা গেছে। শুক্রবার এ খবর নিশ্চিত করেছে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স বা এসডিএফ- এর একজন মুখপাত্র।
এসডিএফ হলো মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আইএস বিরোধী গ্রুপ যারা বর্তমানে মিজ বেগম যে শরণার্থী ক্যাম্পে রয়েছেন তার তদারকি করছেন।
কুর্দি রেড ক্রিসেন্টের একজন প্যারামেডিক বিবিসিকে বলেছেন, তিন সপ্তাহের কম বয়সী শিশুটির ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার সে মারা যায়।
এর আগে শামীমা বেগমের পরিবারের আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি এক টুইট বার্তায় বলেন, তার কাছে জোরালো কিন্তু নিশ্চিত-করা-হয়নি এমন রিপোর্ট এসেছে যে শামীমা বেগমের প্রায় দু-সপ্তাহ বয়সী পুত্রসন্তানটির মৃত্যু হয়েছে।
মি: আকুঞ্জি তার টুইটে শামীমা বেগমের পুত্রসন্তানকে ব্রিটিশ নাগরিক বলে উল্লেখ করেন।
পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকার এক স্কুলের ছাত্রী শামীমা বেগম ২০১৫ সালে তার আরো দুই বান্ধবীসহ তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় পালিয়ে যান।
সেখানে তিনি ডাচ বংশোদ্ভূত এক জিহাদিকে বিয়ে করেন এবং তাদের প্রথম দুটি সন্তানও এর আগেই মারা যায়।
এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে – যখন ইসলামিক স্টেটের স্বঘোষিত খেলাফত বিলুপ্তপ্রায় – তখন সিরিয়ার বাঘুজে এক শরণার্থী শিবিরে তাকে খুঁজে পান দ্য টাইমস পত্রিকার এক সাংবাদিক।
শামীমা বেগম ব্রিটেনে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করে।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বেগম বলেছিলেন তিনি সিরিয়ায় যাবার জন্য অনুতপ্ত নন, তবে তাদের সব কর্মকাণ্ডের সাথে একমতও নন।
তার কথায়, তিনি আইএসের পোস্টার গার্ল হতে চান নি, তিনি শুধু যুক্তরাজ্যে একান্তে তার সন্তানকে বড় করতে চান।
কে এই শামিমা বেগম
পনের বছর বয়সে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দেয়া শামীমা বেগম ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারাতে যাচ্ছেন। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে চার বছর আগে লন্ডন থেকে সিরিয়ায় পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
যেহেতু তার বয়স ১৯ হয়েছে, তাই তিনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। সে কারণেই শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে। তার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত তাদের হতাশ করেছে এবং তারা আইনি পথে বিষয়টি মোকাবেলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ মঙ্গলবার শামীমার মায়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে শামীমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আখুনজি বলেছেন, তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আপিল করবেন।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও দুই ব্রিটিশ কিশোরীর সঙ্গে যখন যুক্তরাজ্য ছাড়েন শামীমা, তার বয়স তখন ১৫ বছর। সিরিয়ায় আইএস উৎখাত অভিযানে আশ্রয় হারিয়ে এখন তার ঠাঁই হয়েছে শরণার্থী শিবিরে। সেখানেই গত সপ্তাহে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ১৯ বছরের এই তরুণী। ব্রিটিশ দৈনিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সন্তানের জন্য তিনি লন্ডনে পরিবারের কাছে ফিরতে চান।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ স্পষ্ট করেই বলেছেন, জঙ্গিদের সমর্থন দিয়ে যারা দেশ ছেড়েছে, তাদের ফিরতে দিতেদ তিনি আগ্রহী নন। গত সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি বলেছেন, তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল ব্রিটেন এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করা।
ব্রিটিশ সরকার মনে করছে, ১৯ বছর বয়সী শামীমার বাবা-মা যেহেতু বাংলাদেশি, সেহেতু যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ওই তরুণীর আছে।
আর ১৯৮১ সালের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, জন নিরাপত্তা বিধান ও সুরক্ষার স্বার্থে যে কারো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করার ক্ষমতা হোম সেক্রেটারির রয়েছে। তাবে তার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ায় ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ছেন না।
তবে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছেন, তিনি কখনও বাংলাদেশে যাননি এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টও তার নেই।
শামীমা বেড়ে উঠেছেন লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন এলাকায়। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে সিরিয়া গিয়েছিলেন ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে। কিন্তু সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই তার কাছ থেকে সেটা কেড়ে নেওয়া হয়।
বিবিসি লিখেছে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আগে যদি তার সন্তানের জন্ম হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী শিশুটি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।
তাত্ত্বিকভাবে, পরে ওই শিশুটির নাগরিকত্বও বাতিল করার কথা ভাবতে পারে ব্রিটিশ সরকার। তবে এক্ষেত্রে তার অধিকার এবং রাষ্ট্রের জন্য আদৌ সে ঝুঁকি কি না, সেই সমীকারণ মেলাতে হবে কর্তৃপক্ষকে।
শামীমার মাকে পাঠানো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নোটিসে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে যদি মেয়ের যোগাযোগ থাকে, অথবা শিগগিরই যোগাযোগ করার সুযোগ হয়, তাহলে যেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।


