নিউ জিল্যান্ডে মসজিদে হামলায় দুই বাংলাদেশী নিহত
ক্রাইস্টচার্চ হামলা: নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, গুলিবিদ্ধ ৮
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে গুলির ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও আট বাংলাদেশিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছ থেকে খবর পেয়েছেন তিনি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে এই হামলার ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা থমস রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো সংখ্যা বলা হয়নি।
এদিকে নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন ক্রাইস্টচার্চ শহরে অবস্থান করছেন। দুপুরে হেগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তাদের সেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার কথা ছিল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। তবে তাঁরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।
শনিবার এই হেগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ দলের ব্যবস্থাপক খালেদ মাসুদ পাইলটও সব ক্রিকেটারদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলের সদস্যদের সবাই হোটেলে ফিরে এসেছেন। তাদের হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের শহরতলী লিনউডের মসজিদেও সশস্ত্র পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। হেগলি পার্ক এলাকা ও আশপাশের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে মানা করা হয়েছে। এই পার্কের সামনের ডিয়েন অ্যাভিনিউয়ে আল নুর মসজিদটি অবস্থিত।
পুলিশ কমিশনার মাইক বুশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানকার স্কুল ও চার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আকাশে হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তাঁরা সেখানে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিছু লোকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়টি এখনও পুলিশ বা শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মোহন ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বিদ্যুতিক কোনো বিভ্রাটের কারণে বোধ হয় এরকম শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম লোকজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সেখানে আমার এক বন্ধুও ছিল। তাঁকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি তাঁর জন্য চিন্তিত।’
এদিকে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মসজিদ হলো সবচেয়ে পবিত্র স্থান। মসজিদে হামলা মানে সন্ত্রাসীরা কোথাও শান্তি চায় না। এ জন্য বিশ্ব মোড়লদের চুপ করে বসে থাকলে চলবে না।


