‘আমার বাবা একটি উন্নত দেশ গড়তে চেয়েছিলেন’

‘আমার বাবা একটি উন্নত দেশ গড়তে চেয়েছিলেন’

আমার বাবা একটি উন্নত দেশ গড়তে চেয়েছিলেন : টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় রিপোর্ট : নিজে বাবা হারালেও দেশের মানুষ হারিয়েছিল উন্নত জীবন পাওয়ার সম্ভাবনাকে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি পরিবার হারালাম, আপনজন হারালাম কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছিল তাদের স্বাধীনতার চেতনা, উন্নত জীবন পাওয়ার সম্ভাবনা

বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন গঠনই বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ একটি উন্নত জীবন পাবে, এটাই তার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সে কাজ তিনি করে যেতে পারেননি। ১৫ই আগস্ট তাকে মেরে ফেলা হলো।’

শনিবার বেলা ১২টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানব দরদি ছিলেন। নিজের বই গরিব ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। স্কুলে যাওয়ার সময় নিজের ছাতা অন্যকে দিয়ে দিতেন। নিজের গোলার ধান বের করে নির্দিধায় গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতেন তিনি।

এর আগে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সেনা,নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা গার্ড অব অনার দেন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরআগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে।

এ উপলক্ষে রোববার সব সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন রোববার। তার ৯৯তম জন্মবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের রয়েছে নানা আয়োজন।

ইতিহাসের পাতায় পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপরই ঢাকায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮-এর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *