নিহতদের প্রতি মধুর বার্তা নিউজিল্যান্ডবাসীর

নিহতদের প্রতি মধুর বার্তা নিউজিল্যান্ডবাসীর

নিহতদের প্রতি মধুর বার্তা নিউজিল্যান্ডবাসীর

খুব দুঃখিত, আমরা সবাই এমন নই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাশে আছি। আমাদের সঙ্গে কষ্ট ভাগ করে নিতে পারসহ এমন অনেক মধুর মধুর বাক্য লিখে সমবেদনা জানাচ্ছে আল নূর মসজিদের ফটকে ফুল, কার্ড ইত্যাদি দিয়ে নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা। তারা এই ঘটনাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। মসজিদের সামনের রাস্তায় নিজেদর ফোন নম্বর দিয়ে পর্যন্ত বলেছে, আমরা পাশে আছি, কষ্ট ভাগ করে নিতে পারো। আবার লিখেছে, খুব দুঃখিত, আমরা সবাই এমন নই।

লন্ডনের এক মসজিদের সামনে তো প্লাকার্ডধারণ করে একজন খ্রিষ্টান দাঁড়িয়ে বলেছে, তোমাদের নামাজের সময় আমি পাহাড়া দেবো।

প্রসঙ্গত, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে ঝরে গেছে ৫০ প্রাণ। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অন্তত ৪৮ জন, এদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন। শান্তিময় এমন দেশে এ ঘটনায় হতবিহ্বল গোটা নিউজিল্যান্ড। সমবেদনা জানাতে তারা যেন ভাষাহীন। আগে কখনও এ রকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাদের।

তবু বর্বরোচিত হামলার ঘটনাস্থল দুই মসজিদের দরজায় ফুলের তোড়া ও কার্ড নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন ক্রাইস্টচার্চসহ আশপাশের বাসিন্দারা। এসব কার্ডে নিহতের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা জানিয়েছেন তাদের অন্তরের কথাগুলো। কার্ডগুলোর কোনটিতে লেখা- ‘খুবই দুঃখিত। আমরা সবাই এমন নই।’

কোনোটিতে স্থানীয় রিয়ো ভাষায় লেখা- ‘কিয়া কাহা’ যার অর্থ ‘রুখে দাঁড়াও’।

শুধু কার্ড নয়, অনেকে রাস্তায় চক দিয়ে লিখেছেন- ‘ওরা কোনো দিন জিততে পারবে না। ভালোবাসাকেই বেছে নাও।’

অনেকে ফুলের তোড়ার সঙ্গে চিরকুট লিখে সেখানে নিজের ফোন নাম্বার দিয়েছেন। চিরকুটে লেখা রয়েছে- ‘পাশে আছি। আমাদের সঙ্গে কষ্ট ভাগ করে নিতে পার।’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জোড়া মসজিদে শুক্রবারের ওই বর্ণবিদ্বেষী হামলায় আক্রান্তদের পরিবারের সমবেদনা জানাতে এভাবেই বার্তা দিলেন স্থানীয়রা।

শনিবার সকাল থেকেই শহরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে জড়ো হয়েছিলেন ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দারা। সঙ্গে এসেছিল ছোট্ট শিশুরাও।

তাদের সবার হাতে নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ফুল আর মুখে একই বাণী- এ হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, তারা আমরাই। আমরা সন্ত্রাসবিরোধী।

এদিকে শুক্রবারের হামলাকে ‘নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অন্ধকারতম দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরদার্ন।

হামলাকারী আমাদের কেউ নন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত ও আহতের সবাই অন্য কেউ নন, তারাই আমরা। যারা এ দেশকে নিরাপদ বাসভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড তাদেরই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *