‌’সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান’

‌’সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান’

‌’সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান’

পাথেয় রিপোর্ট : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব রকম হুমকি বা আক্রমণ মোকাবেলায় যাবতীয় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় বাংলাদেশ। তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব রকম হুমকি বা আক্রমণ মোকাবেলায় যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করি না, যুদ্ধ করতেও চাই না। সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। জাতির পিতা যেই নীতিমালা দিয়ে গিয়েছিলেন- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। আমরা সেই নীতিতেই বিশ্বাস করি এবং সেই নীতিমালা নিয়েই আমরা চলছি।

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাউকে ছাড় নয়, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব রকমের হুমকি ও আক্রমণ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এ সময় জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সেনা পাঠানোর আগে তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশের শরণার্থীদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা আছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ১ কোটি মানুষ শরণার্থী ছিল। কাজেই তাদের নিয়ে এসে পুর্নবাসন করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।

শান্তি চাই, যুদ্ধ করতে চাই না

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো সঙ্গে যুদ্ধ করবো না, যুদ্ধ করতে চাই না। আমরা সবার সঙ্গে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই।

তিনি বলেন, জাতির পিতা যে নীতিমালাটা দিয়ে গিয়েছিলেন সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরীতা নয়। আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি। সেই নীতিমালা মেনেই কিন্তু আমরা চলছি।

‘কারো সঙ্গে কোনো সমস্যা থাকলে সেটাও সমাধান করছি আলোচনার মাধ্যমে। কিন্তু আমরা শান্তি চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের আক্রমণ করে তাহলে তার যেন যথাযথ জবাব আমরা দিতে পারি, আর আমাদের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যেন রক্ষা করতে পারি সেই প্রস্তুতিটা সব সময় আমাদের থাকতে হবে। যুদ্ধের জন্য নয় শান্তির জন্য আমাদের প্রস্তুতি দরকার,’ বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

এ সময় তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা এবং ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমা সমস্যা সমাধানের কথাও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন দেশে হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি সেই ব্যবস্থাটা আমাদের থাকা উচিত।

দুর্যোগ মোকাবেলা বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারি। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। সেটা প্রাকৃতিক দুযোগ হোক আর মানুষ্য সৃষ্ট দুযোগ হোক যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের আছে।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়াসহ সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *