‘ইখলাসে নিয়ত’ ইলম-আমলের সফলতার সোপান : মুফতি শরীফ কাসেমী

‘ইখলাসে নিয়ত’ ইলম-আমলের সফলতার সোপান : মুফতি শরীফ কাসেমী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘ইখলাসে নিয়ত’ ইলম ও আমলের সফলতার সোপান বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রসিদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম যাকারিয়া মাদরাসার মুহতামিম মুফতি শরীফ খান কাসেমী।

সোমবার (২২ এপ্রিল) ভারতের দেওবন্দে অবস্থিত দারুল উলূম জাকারিয়া মাদরাসার শিক্ষাবর্ষের সমাপনী ও খতমে বুখারীর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতের ডেইলি পত্রিকাগুলোর সূত্রে জানা যায়, দেওবন্দের হাইওয়ে ষ্ট্রীটে অবস্থিত দারুল উলূম যাকারিয়া-এর শিক্ষাবর্ষের সমাপনী ও খতমে বুখারী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষাসমাপনকারী ৬০৬ জন শিক্ষার্থীদেরকে বিদায়ী পাগড়ী প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বুখারী শরীফের শেষ দরস প্রদান করেন মুফতী ছামিউল্লাহ কাসেমী। তিনি ইমাম বুখারী রহ.-এর জীবনী ও বুখারী শরীফের গুরুত্ব ও মর্যাদার উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই মজলিসে দারুল উলূম দেওবন্দের উস্তাযুল হাদীস মাওলানা সালমান বিজনূরী নক্বশবন্দী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইলম-আমলের সফলতার সোপান ইখলাসে নিয়তের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। তিনি বলেন, ইসলাম একটি সার্বজনীন ধর্ম। যার সমস্ত রুপরেখা ইলমের দ্বারা তৈরী হয়।

তিনি উম্মাহর বর্তমান অবস্থা ও পেরেশানির মূল কারণ তুলে ধরে বলেন, আমাদের বর্তমান অবস্থার জন্য আমাদের খারাপ কাজসমূহ দায়ী। এসব কিছু আল্লাহর অবাধ্যতা ও অসন্তুষ্টির কারণে হচ্ছে। যা আমরা নিজদের চোখে দেখতে পাচ্ছি। এজন্য শিক্ষা লাভ করে আল্লাহ ও রাসূল সা.-এর সন্তুষ্টির জন্য কল্যাণকর কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।

মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শরীফ খান কাসেমী ফারেগীন শিক্ষার্থীদের আমলের উপর গুরুত্বারুপ করে বলেন, তোমাদের আমলের দ্বারা সমাজে এক বিরল দৃষ্টান্ত তৈরী হবে। যখন একজন শিক্ষার্থী ফারেগ হয়ে একজন আলেমেদ্বীনের অবস্থা বেছে নেয়, তখন তাদের উচিৎ নিজের জীবনে দ্বীনের পরিপূর্ণ অনুকরণ করে উপস্থাপনযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরী করা।

মাওলানা কাসেমী বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যাগুলো থেকে বেঁচে থাকার লক্ষে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তিনি এ বছরের ফারেগীন ছাত্রদের মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষালাভের পর ইসলাম ধর্মকে সারা দুনিয়ায় প্রচার-প্রসার করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মাদরাসায়ে জামিয়াতুর রহমত-এর মুহতামিম মাওলানা ডক্টর আব্দুল মালেক মুগাইসী ও মাওলানা মুনতাজির সমাজের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ছাত্রদের সুন্নাত অনুযায়ী জীবন পরিচালনার উপর গুরুত্বারুপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে মুফতি ছামিউল্লাহ কাসেমী দেশ ও জাতির নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য মোনাজাত করেন।

অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে মাওলানা শাহেদ সাহরানপুরী, ক্বারী সালমান, মাওলানা নোমান, মুফতি হারুন ছাড়াও মাদরাসার ছাত্রবৃন্দ ও স্থানীয় অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী
সূত্র : আসরে হাজির, দিল্লি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *