প্রিয় উত্তরবিহীন চিঠি প্রাপক

প্রিয় উত্তরবিহীন চিঠি প্রাপক

প্রিয় উত্তরবিহীন চিঠি প্রাপক

মুস্তাফা জামান আব্বাসী : এবার ঠিক করেছি এমন একজনকে চিঠি লিখব, যে উত্তর দেবে না বলে ঠিক করেছে। বেশ মজার না?

প্রিয় উত্তরবিহীন চিঠি প্রাপক

আপনার সঙ্গে এখনও ভাল করে পরিচয় হয় নি। কাজেই চিঠি অনায়াসেই লিখতে পারি। কোন মামলা হবে না। কোন পারিবারিক সংকট হবে তার সম্ভাবনা কম। কারণ, তাকে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। যার বিরুদ্ধে মামলা তাকে খুঁজে না পাওয়াটাই সবচে’ সহজ। আমার বড় ভাই ছিলেন চীফ জাষ্টিস। তাকে একদিন খুব ভাল মুডে পেলাম। জিজ্ঞেস করলাম তোমার কতজন লোক বেপাত্তা অথচ মামলা চলছে। বলল, শুনে অবাক হয়ে যাবে। হাজার হাজার।

আজ যার কাছে লিখছি, তার কাছে আমার কোন মামলা নেই। শুধু সামান্য একটু পছন্দ। তা যে কারও কাউকে হতে পারে। এটা মামলাযোগ্য অপরাধ নয়। যেমন ধরুন, একটি গান শুনে এত ভাল লাগল যে বলার নয়। তাকে খোঁজ করতে করতে হয়রান। কিন্তু আর কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না।

একজন খুব ভাল রান্না করেছে। এত ভাল রান্না কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। পরের দিন খোঁজ নিয়ে দেখি, সে বাবুর্চি কাউকে না বলে কোথায় যেন চলেছে। লোক পাঠান হয়েছে তার খোঁজে। সহজে আসবে বলে মনে হয় না। তার স্বামী মারা গেছে।

আমার যিনি চিঠির অপ্রাপক, তিনি জানিয়েছেন যে আমার চেয়ে ভাল মানুষ তিনি নাকি আর দেখেন নি। পরের চিঠিতে আমার বয়সটা শুনে একটু ঘেবরে [ঘাবরান থেকে ঘেবরে] গেছেন। তিনি নানা গুণে গুণান্বিত। কি আর করা। বয়স তো কমাতে পারি নি।

তোমাকে কি বলে সম্বোধন করব? নিশ্চয় প্রিয় অথবা প্রিয়তমা। কোনটা পছন্দ? যদি বলি অপ্রিয়তম। কেমন লাগবে? যাকে কোন সময়ই পাব না, তার পেছনে ভাল সম্বোধন খরচ করে লাভ কি? তার চেয়ে তুমি দূরেই থেক। কাছে এস না। তা হলেই অনেকদিন মনে থাকবে।

আমার যখন বয়স পাঁচ বছরের, তখন পাঁচ বছরের আরেকটি মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ঠিক যেন আমার ওপিঠ। আমাকে দেখে তার সমভাবে ভাল লেগেছিল। তারপর আর দেখা নেই। আমাদের পাশের বাড়িতে কোন এক ডাক্তারবাবুর মেয়ে। যে হাওয়া হয়ে গেছে। সে তো আমার জীবন থেকে একদম হারিয়ে গেছে। কিন্তু আজ দেখলাম সে হারায় নি, সে খুব কাছে অবস্থান করছে। বুকের কাছে।

তেমনি তুমিও। অনেক গানে তোমাকে স্মরণ করা যায়, সে গানগুলো আমি রাত যত গভীর হয়, আমি গাইতে থাকি। আমি জানি সে গান তুমি শোন নি। আমি জানি আমার এই স্বগতক্তি শুধু আমার জন্যে। এই চিঠি লেখাই হবে না। পড়াই হবে না। তবুও তো এটি চিঠি।

যদি তুমি দৈবাৎ এই চিঠির খাম খুঁজে পাও, যদি আমার হস্তাক্ষর চেন, তা হলে জানবে আমি তোমার সবচে’ আপন।

মু. জা. আ.
১১ই বৈশাখ, ১৪২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *