‘হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোন খানে’
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : কি করে হাসি তামাশা করি যখন ইসরাফিল একটি শিঙ্গা নিয়ে বসে আছেন মাথা নিচু করে একটি আদেশের অপেক্ষায় [হাদিস থেকে]।
এর উপরের সব কিছুই লয় হয়ে যাবে। শুধু তোমার সত্ত্বাই বাকি থাকবে। ঘুম থেকে উঠে দেখি মাথার আধ হাত উপরে সূর্য তামার জমিন নিচে দিকচিহ্নহীন সমতল সাহিরা, জড় হয়েছে গোটা সৃষ্টি মানুষ, জিন, পশু। উপরের কথাগুলো পড়লে আর সামনে কল্পনা এগুয় না। শুধু ভাল ভাল কথা শুনতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কথাগুলো তো ভাল নয়, অসম্ভব ভয়ের অকল্পনীয় মহাবিলয়ের কাহিনী।
মস্জিদে গেলেই তো শুনতে হবে শেষের দিনের খবর। তার চেয়ে যদি হয় আজ শেষ দিন, তা হলে কত না ভাল হত। এই শেষ দিনেই কামাই করা যেত যত কিছু। যেমন আমাকে বলা হল সবচে’ বড় ক্ষমতাবান। আমি কি করব? সবাইকে ক্ষমা করব। সবাইকে বলব, তোমাকে আমি মাফ করে দিয়েছি। যদিও সবচে’ শত্রুতা করেছ আমার সঙ্গে। তোমার সঙ্গে সারা জীবন শত্রুতায় ছিলাম। অনেক অপরাধ করেছি সবার অজান্তে। তবে এই মুহূর্তে তোমাকে ক্ষমা করে আমি মুক্ত হলাম।
আমি দেশের সবার উপরে। আমি ক্ষমা করার উপযুক্ত মানুষ। আমি ক্ষমা করেছি। সবাই দেখুক। আমি তাই করেছি।
আমি এই পৃথিবীর সবচে’ বড় ধনবান। সব ধন আমি বিলিয়ে দিলাম। আমি পৃথিবীর সবচে’ বড় ক্ষমতাধর। সব ক্ষমতা আমি ছেড়ে দিলাম। আমি পৃথিবীর সবচে’ সুখি। আমি আমার সব সুখ জনতার জন্যে বিলিয়ে দিলাম। আমি আর কিছু চাই না। শুধু তোমার ক্ষমা চাই। ক্ষমা করতে পারবে না? তুমি ইচ্ছে করলেই পারবে। আমি সব দেয়ার জন্যে প্রস্তুত।
মু. জা. আ.
১৬ই বৈশাখ, ১৪২৬


