পাথেয় রিপোর্ট : রোজাদারের জন্য সাহরি খাওয়া ও ইফতার করা সুন্নাত। বিশেষ কিছু না পেলে সামান্য খাদ্য বা কেবল পানি পান করলেও ইফতারের সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। রাজধানীর পুরান ঢাকা মানে বাহারি ইফতারের আয়োজন। বরাবরের মতো এবারও রোজার প্রথম দিনেই জমে উঠেছে পুরানা ঢাকার চকবাজারের ইফতার বাজার। বড় বাপের পোলায় খায়, আস্ত খাসির রোস্ট, জালি কাবাব, সুতা কাবাবসহ নানা চমকপ্রদ ও স্বাদের ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আর সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ভোজনরসিক রোজাদারেরা।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এখানকার ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশই বিক্রি করেন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এবার আকর্ষণীয় এই ইফতারসামগ্রীটি আরও মুখরোচক করা হয়েছে বলে জানালেন এখানকার বিক্রেতারা। গরুর মগজ, কলিজা, মুরগির মাংস, কলিজা, ডিম থেকে শুরু করে ডাবলি, ছোলাসহ মোট ১৫-২০টি আইটেম ব্যবহার করা হয় এই পদটি তৈরিতে। সঙ্গে আরও প্রায় ২০ ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয় বলেও জানান এখানকার ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে এই মসলাগুলোই ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাদের দাবি, কেবল পুরান ঢাকার পুরনো কারিগররাই এই পদটিকে ঐতিহ্যের স্বাদে তৈরি করতে সক্ষম।
চকবাজারের ইফতার বাজার রোজার প্রথম দিনেই পেয়েছে পূর্ণতা। তীব্র গরম উপেক্ষা করে পুরান ঢাকাবাসীর পাশাপাশি চকবাজারে ইফতারসামগ্রী কিনতে দেখা গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের।
রাজধানীর ধামমন্ডি থেকে ইফতার কিনতে এসেছেন শাহরিয়ার আহমদ। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। তিনি জানান, প্রতি বছর প্রথম রোজায় তিনি এখানে ইফতার কিনতে আসেন। এবারও এসেছেন। তবে এবারের ইফতারির দাম একটু বেশি বলে মনে করছেন তিনি। যদিও বিক্রেতা হাসান আলীর দাবি, তাদের ইফতারসামগ্রীর দাম বাড়ানো হয়নি। প্রায় গতবারের দামেই তারা ইফতার বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাহী মসজিদের সামনের গলিতে যেন পা ফেলার জায়গা নেই। ক্রেতা-বিক্রেতার হই-হুল্লোড়ে মুখরিত পুরো ইফতার বাজার। চলছে বেচাকেনাও। এখানকার অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে সুতি কাবাব, জালি কাবাব, টিক্কাসহ প্রায় ১০-১৫ ধরনের কাবার। কাবাবের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে ডিম চপ, কোয়েল, কবুতরের রোস্টসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী। মিষ্টির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে শাহী জিলাপি, মিষ্টি, দইসহ নানা কিছু।
বিশাল এই সমাহারের যোগান দিতে ব্যবসায়ীদের পরিশ্রমের মূল্যও পাচ্ছেন তারা। ক্রেতা সমাগমের সঙ্গে চলছে বেচাকেনার ধুম। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজার হিসেবে পুরান ঢাকা আগে থেকেই বেশ প্রসিদ্ধ। তাই প্রথম রোজা থেকে প্রতি বছরই এখানে ক্রেতা আনাগোনা থাকে, এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।
এ বছর রোজায় গরমের তীব্রতা বেশি। সারাদিনের রোজা শেষে রোজাদারদের তৃপ্তি দিতে চকবাজারের ইফতারসামগ্রীতে রয়েছে নানা আয়োজন। চাহিদায় এগিয়ে আছে ঐতিহ্যবাসী লাবাং, মাঠা ও বিভিন্ন ধরনের শরবত।


