পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র মাহে রমজানে রোজাদারদের প্রবল সহনশীল, ধৈর্যশীল ও অটল-অবিচল থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন মাওলানা নাসীম আখতার শাহ কায়সার কাসেমী। তিনি বলেন, রমজান মাসকে আল্লাহ তা’আলা সব মাসের সর্দার বানিয়েছেন। এ মাসে এত বেশী জান্নাতি রহমত-বরকত নাজিল হয়, মানুষ সারা বছরে তা অর্জন করতে পারে না। রমজান মাসে আল্লাহর ভাণ্ডার থেকে এতবেশী নেয়ামত বান্দাকে দেয়া হয় যা বান্দা উপলব্ধি করতে অক্ষম। এ মাসে অজস্র ধারায় আল্লাহর করুণা বর্ষণ হয়। রোজাদারের যে মর্যাদার কথা বলা হয়েছে, তা শুধু রমজান মাসের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। রমজানে রোজাদার যে প্রবল সহনশীল, ধৈর্যে অটল-অবিচল থাকতে পারে তা প্রত্যেক রোজাদার ব্যক্তিই জানে।
রমজান মাসকে ধৈর্যের মাস উল্লেখ করে মাওলানা নাসীম আখতার কাসেমী বলেন, এমাস হচ্ছে ধৈর্যের মাস। আর এ সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে এরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। এমাসে মানুষ সারাদিন অভুক্ত থেকেও ক্লান্ত হয় না। সারাদিন পিপাসার্ত থেকেও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা রাখতে পারে। অথচ, অন্যান্য মাসে এক বেলা না খেলে শারীরিক দুর্বলতা এতই বেড়ে যায় , হাঁটাচলা দুষ্কর হয়ে পড়ে। রোজাদাররা সামান্য কষ্ট অনুভব করলেও ধৈর্য ধারণ করে। অনাহারেও ভেঙে পড়ে না। পানির তৃষ্ণা সহ্য করে। এজন্য আল্লাহ তা’আলা বান্দার উপর বিশেষ রহমত নাজিল করেন। এ মাস আমাদেরকে উদারতার শিক্ষা দেয়। তাই, এমাসে যথাসাধ্য গরীব-মিসকিনদের বেশী বেশী দান-সাদকা করতে হবে।
মাওলানা আখতার কাসেমী রমজানের ইবাদত বন্দেগীর উপর বিস্তারিত আলোকপাত করে বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে চারটি ইবাদত বেশী বেশী করতে বলেছেন।
১. অতীতের গুনাহের জন্য তাওবা।
২. বেশী বেশী কালেমা তাইয়্যিবা ও কালেমায়ে শাহাদাত পড়া।
৩. জান্নাত তালাশ করা ও
৪. জাহান্নাম থেকে পানাহ চাওয়া।
তিনি এ মাসকে মাগফেরাতের মাস উল্লেখ করে বলেন, মানুষ সারাবছর যে পাপ পঙ্কিলতায় জর্জরিত থাকে। এ মাসে তা মাফ করানোর মোক্ষম সুযোগ রয়েছে। রহমাতুল্লিল আলামীনের দরবারে অতীতের কৃত গুনাহের স্বীকারোক্তি দিয়ে ক্ষমা করিয়ে নিয়ে জীবনকে নতুনভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর পরিচালনা করার জন্যই এ মাস আসে।
এ বরকতময় মাসকে অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে বেশী বেশী ইবাদাতের দিকে মনোনিবেশ করার পাশাপাশি এ মাসে হিংসা বিদ্বেষ, চোগলখোরি, মিথ্যা,গীবতসহ যাবতীয় মন্দ ও অশ্লীল কাজ পরিহার করে আল্লাহর রহমতের অনুসন্ধান করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
ভারতের ডেইলি পত্রিকা অবলম্বনে লিখেছেন আহমাদ কাশফী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


