পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আবার গোরক্ষকদের বর্বরতা। এবার ঘটনাস্থল ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিওনি। গরুর মাংস নিয়ে যাওয়ার সময় এক মুসলমান দম্পতি সহ ৪ জনকে নির্মম মারধর করল একদল যুবক।
ভারতে লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির জয়ের খবর বের হওয়ার আগেই এক নারীসহ তিন মুসলিমকে গরুর মাংস বহনের অভিযোগ তুলে গাছের সাথে বেঁধে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের সিওনিতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এনডিটিভি জানায়, গো-মাংস বহন করার অভিযোগে এক নারীসহ তিন মুসলিম ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি গ্রামে।
অটোরিকশায় চড়ে ওই গ্রাম দিয়ে যাচ্ছিলেন তিন মুসলিম তরুণ এবং তাদের একজনের স্ত্রী।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত ওই মুসলিম নারীকেও মাথায় জুতা দিয়ে আঘাত করা হয়।
মারের তোড়ে ওই মুসলিম নারী হাঁটুমোড়া হয়ে বসে পড়েন এবং মাথা নিচু করে নীরবে প্রহার সহ্য করছিলেন। এ সময় হিন্দুত্ববাদী যুবকেরা ‘জয় শ্রী রাম’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে এই স্লোগান ছিল বিজেপির। প্রহারের শিকার তিনজনের মধ্যে দুজন স্বামী-স্ত্রী ছিল।
এদিকে পুলিশ ভোপাল থেকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের একজন ফেসবুকে নিজেকে উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রামসেনার সদস্য বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ললিত শাক্যবর বলেন, ‘ঘটনাটি গত ২২মে’র। আটক পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে আদালতে হাজির করার পর আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর একজনকে আদালতে হাজির করা হবে।’
এদের একজন নিজেকে ‘রাম সেনা’ সংগঠনের সদস্য দাবিকারী শুভনাম সিং নামের এক অভিযুক্ত ২৩ মে ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে অবশ্য তিনি এটি সরিয়ে নেন।
রামসেনার এই সদস্যকে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেত্রী প্রজ্ঞা ঠাকুরের হয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। বিতর্কিত প্রজ্ঞা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ২২ মে ওই তিন মুসলিম একটি অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন। তাদের কাছে গরুর মাংস রয়েছে দাবি করে গোরক্ষকদের একটি গ্রুপ তিনজনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। তারপর এক এক করে তাদের পেটাতে শুরু করে। পরে তাদের মাটিতে ফেলে প্রহার করা হয়। এসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে তা দেখতে থাকেন পথচারীরা।
এর আগেও একাধিক বার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।


