পাথেয় রিপোর্ট : দূর্নীতির কারণেই সমাজে আয়বৈষম্য ও বেকারত্ব বাড়ছে মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহতারাম আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, দূর্নীতি জাতীয় অগ্রগতির প্রধান বাধা। দূর্নীতির কারণেই সমাজে আয়বৈষম্য ও বেকারত্ব বাড়ছে। দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব চলছে।
তিনি বলেন, অন্যদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতি চারজনের একজন এখনও অতিদরিদ্র। এ দূর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বহাল রেখে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রথমেই দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে।
শনিবার (৫ মে) বিকেলে রাজধানীর উত্তর বাড্ডাস্থ মধুমিলন পার্টি সেন্টারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত “ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে মাহে রমযানের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপর্যুক্ত কথা বলেন।
সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মুহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, যুবনেতা কে এম আতিকুর রহমান, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারূফ, নগর উত্তর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসাইন প্রমূখ।
পীর সাহেব বলেন, যাকাত দারিদ্র বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি যাকাত আদায় হতে পারে। যাকাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈষম্য দূর করে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব। তিনি সুষ্ঠুভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ধর্ষণ আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে। ধর্ষকের হাত হতে দুধের শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধা পর্যন্ত কেউই রেহাই পাচ্ছে না। সরকার মানুষের ইজ্জতের নিরাপত্তাটুকুও পর্যন্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ধর্ষকের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি ইন্টারনেটের সকল অশ্লীল সাইট বন্ধের জোর দাবী জানান।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সরকার কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তিনি কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সঠিক ও সময়োপযোগী কৃষিনীতি প্রণয়নের জন্য সরকারে প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও অনাচার দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের নৈতিক অবক্ষয় সমাজে পচন ধরিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে আমাদেরকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়ার অনুশীলন করতে হবে এবং সমাজে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’ নীতি কার্যকর করতে হবে।


