শরীয়তের সীমা লঙ্ঘন করে ঈদ আনন্দ হয় না
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : ঈদ অর্থ খুশি। বছরে আমাদের দুইটা ঈদ। একটা ঈদুল ফিতর, আরেকটা ঈদুল আজহা। ঈদ কে কেন্দ্র করে আমাদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ধনী- গরীব সবাই মিলে আমরা এই আনন্দ উপভোগ করি।
খুশি প্রকাশ করা, আনন্দ উপভোগ করা ইসলামের দৃষ্টিতে না জায়েজ নয়। ইসলামে আনন্দ উল্লাস, হাসি- ঠাট্টা করার বিধান রয়েছে। বরং গোমড়া মুখে থাকা, নিজের চেহারা কালো করে রাখা ইসলাম সমর্থন করেনা।
খোশ মেজাজে থাকা, আনন্দ উপভোগ করা ইসলামে নিষেধ করা হয়নি।
রাসুল ( সাঃ) নিজে আনন্দ করেছেন। নিজের স্ত্রীর সাথে আনন্দ ফুর্তি করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের সাথে আনন্দ করেছেন। হাসি ঠাট্টা করেছেন। নিজের নাতি হাসান ( রাঃ) হুসাইন ( রাঃ) এর সাথে হাসি মজাক করেছেন,তাদের সাথে আনন্দ করেছেন।
একারণে ইসলামের দৃষ্টিতে হাসি – মজাক, আনন্দ ফুর্তি করা নিষেধ নয়। আনন্দ -উল্লাস সব কিছু করা যাবে।
তবে কথা হল, আনন্দ -ফুর্তির একটা সীমা রেখা আছে। সীমা লঙ্ঘন করে কখনো কোন আনন্দ নেই। ইসলামে সীমা লঙ্ঘন করে আনন্দ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
কাউকে কষ্ট দিয়ে কোন আনন্দ -ফুর্তি ইসলামে নেই। কোন শরীয়াতের খেলাফ কাজ করে আনন্দ নয়। কোন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, কোন অনৈতিক কাজের মধ্য দিয়ে ইসলামে আনন্দ করতে বলা হয়নি। কোন শরীয়াত বিরোধী কাজের মধ্যে আনন্দ ফুর্তির বিধান নয়।
ইসলামে আনন্দ করতে হবে শরীয়াতের গন্ডির মধ্যে থেকে। আনন্দ উপভোগ হবে শরয়ী মাপ কাঠির মাঝে। কশ্চিন কালেও শরীয়াতের খেলাফ কাজ করে আনন্দ করা যাবে না।
বড় দুঃখ হচ্ছে, আমরা ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে শরীয়াতের সীমা রেখা লঙ্ঘন করে ফেলছি। শরীয়ত বিরোধী কাজের সাথে জড়িত হচ্ছি। যে গুলো করা আমাদের জন্য বৈধ নয়, সে সব কাজ এখন আমরা করছি নিয়মিত।
এই ঈদ কে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর যুবক -যুবতী যেন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। ইসলামী বিধি বিধান তোয়াক্কা করছেন না। নিজের খেয়াল খুশিমত চলা ফেরা করছেন।
ঈদ উপলক্ষ্যে আমাদের সমাজের কিছু মা, বোন বেপর্দায় রাস্তায় নেমে যাচ্ছেন। নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে খোলামেলা চলাফেরায় তারা ব্যস্ত। আল্লাহ তায়ালার হুকুম অমান্য করে নিজেকে পরপুরুষের সামনে মেলে ধরছেন তারা। যেটা খুবই নিন্দনীয়।
এমনি ভাবে এক শ্রেণীর যুবক ভায়েরা এই ঈদকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশী বেপরোয়া। বাদ্য যন্ত্রের তালে তালে হৈচৈ এ মত্ত তারা। রাস্তায় খোলা ট্রাকের উপর বাদ্য যন্ত্র বসিয়ে গানের তালে উন্মাতাল হয়ে পড়ে। উদ্যাম নাচে এলাকা কাঁপিয়ে ফেলে।
বলুন তো! এটা কেমন আনন্দ? শরীয়াতের খেলাফ কাজ করে এটা কেমন ফুর্তি? এসব আনন্দ করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যুবকেরা।
তাই আসুন! শরীয়াতের খেলাফ কাজ করে কোন আনন্দ নয়। আনন্দ উল্লাস যা হবে, সবই শরীয়াতের গন্ডির মধ্য থেকে।
আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


