৫ হাজার মানুষ জলবন্দী জামালপুরে

৫ হাজার মানুষ জলবন্দী জামালপুরে

৫ হাজার মানুষ জলবন্দী জামালপুরে

জামালপুর প্রতিনিধি : যেখানে পানিবন্দী মানুষ সেখানেই বিপৎসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে পানি। জামালপুরে আগ্রাসন চালাচ্ছে যমুনা নদী। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জামালপুরে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারি প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনায় পানি বেড়ে শনিবার সকালে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের চিনাডুলি, শিংভাঙ্গা, বাবনা, পূর্ব বাবনা, দেওয়ান পাড়া, কড়ইতার ডেবরাইপ্যাচসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালের বন্যায় বিভিন্ন সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়া বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্রকে সবাই মরা নদী ভাবে। বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ।কেবল বাড়ছেই পানি। নদের পাড়ের মানুষদের ঘুম হারাম। গাইবান্ধায় আরও বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। শনিবার সকাল ৯টায় নদের ফুলছড়ি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বেড়ে নদী তীরবর্তী চরসহ নিম্নাঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তিস্তা, ঘাঘট নদীবেষ্টিত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই এলাকার লোকজনের মাঝে বন্যা ও ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বসতবাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে অনেকে পড়েছেন বিপাকে। তবে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা বা তথ্য এখনও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *