বন্যার পদধ্বনি, প্লাবিত এলাকায় প্রয়োজন ত্রাণ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল আগে থেকেই। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইতোমধ্যেই পানি ঢুকে পড়েছে অনেক ঘরবাড়িতে। কিছু কিছু স্কুল, কলেজ, মাদরাসাও বন্ধ হয়ে গেছে।
‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে নদী ভাঙন। কোথাও কোথাও পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ ভাঙন বা পানি প্রবেশ করায় মানুষ পড়েছে দৈন অবস্থায়। এ থেকে মানুষকে উদ্ধার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এই নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে জেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, করতোয়া, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদী ভাঙন। সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার এবং কংস নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে আরও জানা যায়, বান্দরবান-কেরানীরহাট-চট্টগ্রাম সড়কের সাতকানিয়া অংশের বড়দুয়ারা এলাকায় সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ একরকম বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার বহু রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার। উপজেলায় খোলা হয়েছে ২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র। জামালপুরের বকশীগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ৫ দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার উপায় বের করতে হবে। এডিবির জলবায়ু ও অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপি ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। ১৯টি উপকূলীয় জেলা স্থায়ীভাবে ডুবে যেতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে সবার আগে। আমরা আশাবাদি থাকতে চাই। দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে সচল রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের সব দায়িত্বশীলগণ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও আমরা মনে করি।


