কবে চালু হচ্ছে নৌপথে বাঙালীর হজযাত্রা

কবে চালু হচ্ছে নৌপথে বাঙালীর হজযাত্রা

কবে চালু হচ্ছে নৌপথে বাঙালীর হজযাত্রা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সময় লাগুক তবু কম টাকায় কম খরচে নৌপথে হজ করতে যেতেন বাংলাদেশ, ভারতের হাজীরা। এখন সে সুযোগ নেই। নৌ পথে হজযাত্রার প্রস্তুতি ছিল দারুণ। ইবন বতুতার মতো অনেকটা ঘর থেকে সহায় সম্বল নিয়ে ছয় মাসের একটা প্রস্তুতি নিয়ে ছুটে চলতেন তারা। অনেকে এটাও ভাবতো, এই বুঝি জীবনের শেষ সফর। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনে নৌ পথে ব্যবহারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চারতি হচ্ছে। সাগরপথে চট্টগ্রাম-জেদ্দা গমন করতে পারলে খুব কম খরচে আল্লাহর মেহমানরা হজ করতে পারবেন। যেহেতু চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিকমানের নৌ বন্দর রয়েছে, সরকার ইচ্ছা করলে নৌ পথে হজযাত্রার ব্যবস্থা করতে পারে।

এদিকে ৪ জুলাই থেকে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীরা হজপালনের জন্য আকাশপথে সৌদি আরব যাচ্ছেন। বুধবার থেকে (১৭ জুলাই) সৌদি আরবের জেদ্দা (ইসলামিক পোর্টে) নৌ বন্দর দিয়ে নৌ পথে আসা হজযাত্রীরা দেশটিতে প্রবেশ করবেন। প্রথম জাহাজে ৪৮০ জন যাত্রী রয়েছে। জাহাজটি সুদান থেকে আসবে। খবর সৌদি গেজেটের।

এসব হজাযাত্রী সুদানের সুকিন নৌ বন্দর থেকে আসছেন। এক সময় সুকিন বন্দরটি পূর্ব আফ্রিকার প্রধান নৌ বন্দর হিসেবে স্বীকৃত ছিল।

জেদ্দা সমুদ্র বন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে হজযাত্রীদের জন্য অনেক প্রাচীনতম বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও বিমানের স্বল্প সময়ের ভ্রমণের ফলে নৌ পথে হাজিদের যাতায়াত ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে। এই নৌ বন্দরে প্রতি ঘণ্টায় ৮ শ’ জনের বেশি মানুষ ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। এ জন্য অতিরিক্ত ২৬৬ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মদিনার প্রিন্স মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পর হজযাত্রীদের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম প্রবেশ পথ হলো- জেদ্দার ইসলামিক নৌ বন্দর।

জেদ্দা নৌ বন্দরের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল জালিলি সৌদি গেজেটকে জানিয়েছেন, এ বছর নৌ পথে সুদান থেকে ৩০টি জাহাজের মাধ্যমে ২২ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব আসবেন। গত বছর এসেছিলেন ১৫ হাজার হজযাত্রী নৌ পথে।

ইতোমধ্যে নৌ বন্দরে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মী নিয়োগ করেছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নৌ বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্নসহ লাগেজ স্ক্যানের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সময়ের পরিক্রমায় এখন বিমানে অল্প সময়ে হাজার মাইল পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এক সময় ছিল যখন মানুষকে ১ বছর বা ৬ মাস আগ থেকেই হজের সফর শুরু করতে হত। বাংলাদেশ থেকেও পানি পথে মানুষ হজে যেতেন। সম্প্রতি ভারত সরকার নৌ পথে হজ সার্ভিস চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *