‘মহল্লায় মহল্লায় আলেমদের তালিমি হালকা পরিচালনা করা উচিত’
পাথেয় রিপোর্ট : ইসলাহী ইজতেমা ও ইসলাহী সফরের একমাত্র উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহকে পাওয়া উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের ডাকছেন। আইসো, আইসো, আমার কাছেই আইসো। এখানেই তোমাদের নাজাত ও মুক্তি। আমরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ইসলাহী সফরে বের হয়েছি। আমরা আশা করছি, আল্লাহ আমাদের সফর কবুল করে নিবেন। আমাদেরকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাতারে শামিল করে নিবেন।
বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা নোয়াখালী জেলা শাখা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের আগমুহূর্তে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ, এগ্রিকালচার জামে মসজিদে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
ঈমানের সম্পর্ক যেহনিয়তের সাথে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, দাওয়াত ইসলামের একটি শাখা। দাওয়াতের মাধ্যমে জযবা তৈরি হয়। জযবা কখনো স্থায়ী হয় না। জযবা সবসময় কল্যাণ নিয়েও আসে না। তাই তালিমের প্রয়োজন। কারণ তালিমের মাধ্যমে যেহনিয়ত তৈরি হয়। আর ঈমানের সম্পর্ক যেহনিয়তের সাথে, জযবার সাথে নয়।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, ঈমান শিখতে হয় এবং বৃদ্ধি করতে হয় দুই ভাবে। ১. আফাক অর্থাৎ পরিবেশ-প্রকৃতি দেখে। ২. নিজেকে দেখে। নিজেকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার মাধ্যমে। তিনি বলেন, স্রষ্টার সৃষ্টির মাঝেই তিনি বিদ্যমান। তাঁর সৃষ্টির মাঝেই খুঁজলে তাকে পাওয়া যায়। ঈমান বৃদ্ধি পায়।
প্রতিদনি নির্দিষ্ট একটা সময় আল্লাহর নামের জিকির করার আহ্বান আল্লামা মাসঊদ বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির। আল্লাহ নামের জিকিরের স্বাদ, আল্লাহ নামের স্বাদ কখনো কমে না, বরং যত বেশি বেশি করবে ততো স্বাদ বৃদ্ধি পাবে। আল্লার নামের জিকিরে কখনো বিরক্তিও আসে না। যে ব্যক্তি যত বেশি জিকির করবে সে আল্লাহর কাছে ততো প্রিয় হতে থাকবে।
তিনি বলেন, জিহ্বায় আল্লাহ নাম আসাটা অনেক বেশি কঠিন। কতটা কঠিন সেটা বলে বোঝানো যাবে না। বুঝতে হলে ফেরাউন, আবু জেহেল, আবু লাহাব’কে জিজ্ঞাসা করতে হবে। আর আল্লাহর প্রিয় বান্দা এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহ নামের জিকিরটা খুবই সহজ। মুমিনের জন্য জিকিরের চাইতে সহজ কোন শব্দ নেই। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি, আল্লাহ আমাদের জিহ্বায় তার নাম আসাটা সহজ করে দিয়েছেন। আমরা সহজেই তার নামের জিকির করতে পারি।
মহল্লায় মহল্লায় তালিমের হালকা চালু করার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, তালিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তালিমের মাধ্যমে যেহনিয়ত তৈরি হয়। ঈমান পাকাপোক্ত হয়। অন্তরে ঈমানের স্বাদ আসে। ইবাদত করতে এবং আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন করতে ভালো লাগে। সবখানে আলেমদের তালিমি হালকা পরিচালনা করা উচিত। প্রথমত ‘ঈমান’ বইয়ের মাধ্যমে তালিমের হালকা চালু করার কথা বলেন তিনি।
ইসলামী বয়ান শেষে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা.-এর খলিফা, রংপুরের পীর মাওলানা হোসাইন আহমদ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।


