‘বিশ্ব পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাশ্মীরকে স্বাধীনতা দিতে হবে’

‘বিশ্ব পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাশ্মীরকে স্বাধীনতা দিতে হবে’

পাথেয় রিপোর্ট : বিশ্ব পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাশ্মীরকে স্বাধীনতা দিতে হবে মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে মায়ানমারে ফেরত দিতে সরকারকে কুটনৈতিকভাবে জোরালে প্রদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের দিয়ে কোনো অপশক্তি যাতে দেশ বিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র না করতে পারে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ভারতে চরমভাবে মানবতা লঙ্ঘন হচ্ছে। সেদেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর বর্বর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে মোদী সরকার। আসাম থেকে মুসলমানদের বিতাড়নের পাঁয়তারা করছে। স্বাধীন কাশ্মীরকে পরিপূর্ণ গ্রাস করার সব আয়োজন করে সেখানকার মুসলমানদের উপর নির্যাতনের স্টীমরোলার চালানো হচ্ছে। তাদের জন্মভূমিতে তারা আজ চরম অসহায় জীবন যাপন করছে।

কাশ্মীরের রাস্তায় রাস্তায় লাশ আর রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে মোদি সরকার উল্লেখ করে মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী বলেন, কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দী করে রেখেছে মোদি সরকার। বাংলাদেশ সরকারসহ বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলো তাদের অবস্থান পরিস্কার করছে না। মানবতার স্লোগানদারীদের মুখও আজ রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে আছে। বিশ্ব পরিস্থিতিকে শান্ত রাখতে হলে অবশ্যই যুদ্ধনীতি থেকে সরে আসতে হবে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদেরকে স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে।

শনিবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২০১৯-২০ সেশনের মজলিসে শূরার প্রথম অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আমীরে মজলিস শূরা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবতার মুক্তির জন্য খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থার কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সংগঠন। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মতান্ত্রিক কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সংগঠনের দাওয়াত তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে মজবুত ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের পরিচালনায় শূরা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারী, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মুফতী সাঈদ নূর, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা কুরবান আলী, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতী শরাফত হোসাইন, অফিস ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জি এম মেহেরুল্লাহ, মাওলানা এনামুল হক মূসা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সহ বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা নিয়ামাতুল্লাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা হোসাইন আহমদ, মুহাম্মদ আব্দুর রহীম, মাওলানা জসিম উদ্দীন, মাওলানা হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আনোয়ার আলী, মাওলানা সামিউর রহমান মূসা, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন খান, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মুমিন, যুব মজলিসের সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আতাউল্লাহ প্রমূখ।

শূরায় আল্লাহ, রাসূল সা. ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান পাশ, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণ, চামড়া শিল্প ধ্বংস রোধে ব্যবস্থা, পাঠ্যপুস্তুক থেকে ডারউইনের বিবর্তনবাদ ও ঈমান আকিদা পরিপন্থি শিক্ষা বাতিল, ইসকনের তৎপরতা বন্ধ ও নিষিদ্ধ করা, দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ, আসাম থেকে মানুষ বিতাড়ন বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ পুর্নবাসন এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার আহবানসহ নয় দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *