মুস্তাফা জামান আব্বাসী : মনই সবচে’ দরকারি চালিকা শক্তি। মন ভেঙে গেলে শরীর ভেঙে যায়, আয়ু কমে যায়। যেমন করেই হোক, মনটাকে চাঙ্গা রাখতে হবে।
প্রতি বছর পাহাড়ে সমুদ্রে ঘুরে এলে মন চাঙ্গা থাকে। আমরা অনেকে এটা বুঝতে চাই না। আমাদেরকে নিয়ে প্রতি বছর আব্বা-আম্মা পাহাড়ে যেতেন। কেন, তা এতদিন পরে বুঝতে পারি। মনটাকে চালিয়ে নেয়ার জন্যে। কলকাতার ঘিঞ্জি গলিতে কতদিন আর ভাল লাগে? আমার লেখা নজরুলের বইতে তার কথাও আছে। তিনি প্রায়ই দার্জিলিং গিয়ে উধাও হয়ে যেতেন বন্ধু-বান্ধবের নিয়ে। সেখানেই রবীন্দ্রনাথের সাথে দেখা।
দেখে খুশি যখন ছাত্র-ছাত্রীরা একদিনের সফরে বাইরে বেরুতে যায়। তারা যে এইটুকুতে যে আনন্দ পায়, তা আমি বুঝতে পারি। তাই আমি প্রতি বছর ওদেরকে নিয়ে ঘুরে আসি। এবার কোথায় যাব জানি না। লন্ডন থেকে একটা আহ্বান এসেছে, কিন্তু সে শুধু চিঠির আহ্বান। ভিসা না আসা পর্যন্ত শেষদিন অবধি অপেক্ষা করতে হবে। হাসন রাজার স্মরণ উৎসব। অনেক গান হবে।
মনকে চালিত রাখার প্রধান উপকরণ: আল্লাহ্র কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ। এ ছাড়া জাগতিক সমস্যার সমাধান হবে না। প্রত্যেকরই সমস্যা, তা তিনি যত বড় লোকই হোক না কেন। একটি দোয়া: ‘হাসবুনাল্লাহুল নেয়মাল উকিল, অনিমুল মওলা অনিমুল হাকিম’। অর্থাৎ সবকিছুই তার উপর ছেড়ে দিলাম। কিছু চিন্তার খোরাক রাখলাম না।
মনকে চালু রাখার আরও উপায় আছে। কি উপায়? যে চিন্তা আপনাকে তাড়িত করে, তাকে বিতাড়িত করুন। আপনাকে দুশ্চিন্তা জখম করে। চেষ্টা করুন দুশ্চিন্তাকে চিরদিনের জন্যে আপনার কাছ থেকে বের করে দিতে। আমি একজনকে চিনি, কোনদিন দুশ্চিন্তা যাকে স্পর্শ করতে পারে নি। এর ফলে, তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন। কোন কিছু নিয়ে তিনি দুর্ভাবনা করেন নি।
মু. জা. আ.
৩০শে ভাদ্র, ১৪২৬


