আন্তর্জাতিক ডেস্ক ● রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী বিফল প্রমাণ করে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তাঁর দলের গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করলেন। এতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অবশ্যই বড় ধাক্কা খেয়েছে। যুক্তরাজ্যের তরুণ প্রজন্ম সম্ভবত এই প্রথম রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারের সামর্থ্য স্পষ্ট দেখিয়ে দিয়েছে।
এবারের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন যুক্তরাজ্যের বড় দুই রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ পার্টি এবং লেবার পার্টির রাজনীতিতে এক ধরনের তরঙ্গের সঞ্চার করেছে। প্রায় দুই দশক পর দেশটিতে এ রকম দ্বিদলীয় রাজনীতির প্রাধান্য ফিরে এল।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি জোরদার প্রচারণা সত্ত্বেও নিজেদের ভোট ২০১৫ সালের তুলনায় সামান্যই বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে গত তিন দশকে অনুষ্ঠিত আর সব নির্বাচনে এ রকম প্রচার চালালে কোনো ক্ষমতাসীন দল নিশ্চয়ই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত। কিন্তু এবার করবিনের লেবার পার্টির উন্নতি থেরেসা মের যাবতীয় প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে গেছে। করবিন তুলনামূলক কম বয়সী ভোটারদের মন যেমন জয় করেছেন, তেমনি প্রতিষ্ঠানবিরোধী দল ইউকেআইপির পুরোনো ভোটার এবং প্রবীণদের একাংশের ভোটও পেয়েছেন। ফলে দুই বছর আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার লেবার পার্টির অর্জিত ভোটের হার অনেক বেড়েছে। তরুণদের সমর্থনের ফলেই এবার অবিশ্বাস্যভাবে ইউকেআইপির ৪০ লাখ ভোটারের একটি বড় অংশের ভোট লেবার পার্টির দখলে গেছে।
করবিনের সমর্থনে নতুন জোয়ারের আশঙ্কা কনজারভেটিভদের কেউ কেউ আগেই করেছিলেন। ৩৫ বছরের কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে লেবার পার্টির সমর্থন স্পষ্টতই বেড়েছিল। এতে কনজারভেটিভ পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনগুলোর বেশ কয়েকটি হুমকির মুখে পড়ে। এ ছাড়া লেবার পার্টি কয়েকটি জায়গায় অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছে। সারা দেশের মধ্যে কনজারভেটিভ থেকে সমর্থন লেবার পার্টির দিকে চলে যাওয়ার হার ছিল এক দশমিক আট শতাংশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) ব্যাপারটিও এবার একটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। যেসব আসনে গত বছরের গণভোটে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে রায় এসেছিল, সেসব জায়গায় এবারের ভোটে কনজারভেটিভদের সমর্থন লেবার পার্টির দিকে চলে যাওয়ার হার আট শতাংশ। আর যাঁরা ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, লেবার পার্টির দখল থেকে সেই সব এলাকায় জনসমর্থন কনজারভেটিভদের দিকে গেছে মাত্র এক শতাংশ।
লন্ডনের অধিকাংশ এলাকায় লেবার পার্টি সাফল্য পেয়েছে। ওয়েলসেও ভালো করেছে। আর কনজারভেটিভ পার্টি স্কটল্যান্ডে ভালো করেছে।


