প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চাইলে পণ্যরপ্তানীমুখিতা জরুরি
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অতিসন্তর্পণে বিজয়ের বন্দরে শত বাধা সত্ত্বেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখে অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা ঘটনায়ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো কিছু নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে ডলারের মজুদ কমতির দিকে।
অবস্থা এখনই আশঙ্কার পর্যায়ে না গেলেও এটি উন্নয়ন যাত্রায় এগিয়ে চলা দেশের জন্য খানিকটা উদ্বেগের বৈকি। যেহেতু ডলারের মূল দুই উৎসের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালোই আছে, তাই বোঝা যাচ্ছে অপর উৎস রপ্তানি আয় কমছে। এটি অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ সব সময় একই রকম বা ঊর্ধ্বগামী থাকবে না।
বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরাই হলেন আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহের মূল উৎস। আবার শ্রমিকদের সিংহভাগই কাজ করেন সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে। কিন্তু সেসব দেশে সম্প্রতি উন্নয়নের কাজের গতি কমে আসায় অদক্ষ শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমে আসছে।
বিকল্প যেসব কাজের সন্ধান মিলছে সেগুলোও তেমন সফল হচ্ছে না। সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকরা ফিরে আসছেন। এদিকে মালয়েশিয়াও অবৈধ শ্রমিক ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে। ফলে অভিবাসী শ্রমবাজার আগের মতো সুলভ থাকছে না। এদিকে আমাদের দক্ষ শ্রমিক তৈরির কাজ বিশেষ এগোয়নি। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। এতে অর্থনীতি যে চাপে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের ডলারের ধারণক্ষমতা হলো ২২৩ কোটি ডলার, বর্তমানে আছে মাত্র ৮৯ কোটি ডলার। দেখা যাচ্ছে এক মাসে মজুদ কমেছে ২০ শতাংশ। এটি উদ্বেগজনক হার। ব্যাংকগুলোর মজুদ কমতে থাকায় নৈমিত্তিক বিভিন্ন দায় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের ডলার কিনতে হচ্ছে।
এই ধারা গত দুই বছর ধরে চলছে। ডলারের সংকট তৈরি হওয়ায় ব্যাংক ও খোলাবাজার উভয় ক্ষেত্রেই ডলারের দাম বাড়তির দিকে। প্রতি ডলার ৮৫ থেকে ৮৭ টাকায় উঠেছে। এখনই অবস্থা উদ্বেগজনক বলা যায় না তবে ধারাটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরে নিয়ে ক্রমেই ডলারের উৎস হিসেবে রপ্তানি আয় বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া এখন প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য সব সময় দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, সম্ভাব্য ও নতুন বাজার সন্ধানের কথা বলে আসছেন। এখন সময় এসেছে এ কাজে আরও মনোযোগ দেওয়ার। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এশিয়ায়, এমনকি সারাবিশ্বে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য। কিন্তু তার সঙ্গে অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। আমরা আশাবাদী, নতুন বাজার সৃষ্টি, দেশের পণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে আরও বেশী তৎপর হবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নীতিনির্ধারকদের সুনজরই দেশকে এগিয়ে রাখবে।


