জমজমকে গুণমানে শ্রেষ্ঠ পানি বললেন জাপানি বিজ্ঞানী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মক্কার ঐতিহাসিক কূপ জমজমের পানিকে গুণমানে শ্রেষ্ঠ পানি বলছেন জাপানের প্রখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী মাসারু এমোতো। তিনি বলেন, এই কুয়োর পানিতে যে গুণাগুণ আছে– তা পৃথিবীর আর কোনও পানিতে নেই। তাছাড়া এর মতো বিশুদ্ধ পানিও পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে না। ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই গবেষণায় তিনি লিখেছেন, পবিত্র জমজমের একফোঁটা পানিতে যে পরিমাণ খনিজ বা আকরিক পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে, তা পৃথিবীর অন্য কোনও পানিতে নেই। সেগুলো হল ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, সালফেট নাইট্রেট, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি মিনারেলস। এগুলোর আনুপাতিক হার এতটাই বিজ্ঞানসম্মত যে, এই পানি নিয়মিত পান করলে বহু রোগ-ব্যাধির উপশম হয়। এই পানিতে এমন কিছু মূল্যবান উপাদান রয়েছে, যাতে এর পানি কখনও দূষিত হবে না।
ইসলামী ঐতিহ্যবাহী আবে জমজমের পানির ওপর দীর্ঘ গবেষণার পর জাপানের প্রখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী মাসারু এমোতো এ কথা বলেন।
মাসারু এমোতো বলেন, সাধারণত কুয়ো, পুকুর, নদী, খাল-বিল ইত্যাদির পানিতে জলজ উদ্ভিদ বা উদ্ভিজ্জ অণুজীব জন্মালেও জমজমের পানিতে এই সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়াও জমজমের পানিতে অ্যান্টিমনি– বেরিলিয়াম– ব্রোমাইন– কোবাল্ট– বিসমাথ– আয়োডিন এবং মলিবডেনাম-এর মতো উপাদানের মাত্রা ০.০১ পিপিএমের থেকেও কম। ক্রোমিয়াম– ম্যাঙ্গানিজ এবং টাইটানিয়ামের মাত্রাও একেবারেই নগণ্য। ফলে এই কুয়োর পানি একদিকে যেমন জীবাণুমুক্ত– অন্যদিকে তেমনই জীবাণু প্রতিষেধক। জাপানি বিজ্ঞানী মাসারু এমোতো তাঁর গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন– জমজমের পানির পিএইচ ৭.৮। এটি সামান্য ক্ষার জাতীয় হওয়ায় এর গুণগতমান অন্যান্য পানির থেকে অনেক বেশি।
উল্লেখ্য– পবিত্র জমজম কূপ ও তার পানি নিয়ে রাসূল সা.-এর অনেক হাদিস রয়েছে। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হল ইবনে আব্বাস রা. কর্তৃক বর্ণিত মহানবী সা. ইরশাদ করেছেন– পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোৎকৃষ্ট পানি হল জমজম কূপের পানি। এতে রয়েছে তৃপ্তির খাদ্য এবং ব্যাধির আরোগ্য। এই পবিত্র কূপ সৃষ্টি নিয়ে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত রয়েছে। আল্লাহর নির্দেশে নবী ইব্রাহিম আ. তাঁর স্ত্রী হাজেরা আ. ও শিশুপুত্র ইসমাইল আ.কে মক্কার বিরান মরুভূমিতে রেখে আসেন। একপর্যায়ে তৃষ্ণার্ত শিশুপুত্রের জন্য পানির সন্ধানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার ছোটাছুটি করেন। ওই সময় জীবরাইল আ.-এর পদাঘাতে মাটি ভেদ করে উঠে আসে পানি– সৃষ্টি হয় জমজম। পবিত্র মসজিদুল হারাম বা কাবা শরীফ চত্বরে রয়েছে এই কূপ।


