আমিরের আগুনে পুড়ল ভারত

আমিরের আগুনে পুড়ল ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক :: ওভালে মোহাম্মদ আমিরের বল শুরু থেকেই একের পর এক নিশানা খুঁজে পেতে লাগল। সে নিশানা শুধু রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান আর বিরাট কোহলির উইকেটেরই নয়, হয়তো জয়েরও।

৩৩৮ রান করে ব্যাটসম্যানরাই গড়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের জয়ের ভীত। ফখর জামানের সেঞ্চুরি সবচেয়ে বড় অলংকার। কিন্তু কোহলি-রোহিতদের নিয়ে গড়া ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হতে সেই রানই যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। ব্যাটসম্যানরা দাঁড়িয়ে গেলে ৩৩৮ তো ভারত তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিতে পারে!

কিন্তু সব ওড়াউড়ি শুরুতেই থামিয়ে দিয়ে বোলিংয়ের আগুনে উল্টো ভারতকেই পোড়াতে শুরু করেন আমির। ৩৩৮ রান তাড়া করে জিততে যাঁদের ব্যাটগুলো তলোয়ারের ফলা হয়ে ওঠা দরকার ছিল, ভারতের সেই তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিলেন আমির একাই।

আমিরের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে রোহিত এলবিডব্লু। তৃতীয় ওভারে কোহলি একবার জীবন পেয়েও পরের বলে ক্যাচ দেন পয়েন্টে। দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেটা মুঠোয় পোরেন শাদাব খান। আমিরের পরের উইকেটটা আরেক বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান ধাওয়ানকে হালকা ইনসুইংয়ে কট বিহাইন্ড করে।

৬ ওভারের বিধ্বংসী স্পেলে ১৬ রান দিয়ে দুই মেডেন ওভার আর ৩ উইকেট। ভারতকে শুরুতেই লাইনচ্যুত করা আমিরকে এরপর আর বল হাতে নিতে হলো না। তাঁর দেখানো পথে হাসান আলী, শাদাব খানরাই উপড়ে ফেলেন বাকি বাধাগুলো। ম্যাচ শেষে মাঠে জানানো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আমির অবশ্য ভারতের শিরোপা কেড়ে নেওয়ার কৃতিত্ব ভাগ করে দিলেন সবাইকে, ‘আমি বলব দলের সবার পারফরম্যান্সই আমাদের জিতিয়েছে। সবাই যেভাবে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং করেছে, এককথায় অসাধারণ।’

স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। বয়সে তরুণ হলেও ক্যারিয়ারের শুরুতেই ক্রিকেটের অন্ধকার জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া আমিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল। কিন্তু আমির আত্মবিশ্বাসী ছিলেন আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন। ২০১৫ সালে বিপিএল খেলতে বাংলাদেশে এসে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তাঁর স্বপ্নের কথা, ‘আমি সব সময় ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে এগোনোয় বিশ্বাসী। ছোট লক্ষগুলো অর্জন করতে পারলে দিন শেষে সব লক্ষ্যই পূরণ হয়।’

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে নিজের কথা প্রমাণ করে দেখান পাকিস্তানের বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। টি-টোয়েন্টি দিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করা আমির ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই নেন ৩ উইকেট। আমিরের বলের আগুন এরপরও জ্বলেছে অনেকবার।

তবে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খুব একটা ভালো করছিলেন না। প্রথম তিন ম্যাচে তো পান মাত্র ২ উইকেট! পিঠের ব্যথায় খেলতে পারেননি সেমিফাইনালেও। কে জানত, ফাইনালে ফিরে সেই আমিরই পাকিস্তানকে দেখাবেন জয়ের পথ!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *