বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত রায় মুসলিম বিশ্ব মেনে নিবে না : ইশা ছাত্র আন্দোলন

বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত রায় মুসলিম বিশ্ব মেনে নিবে না : ইশা ছাত্র আন্দোলন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর থেকে অমিমাংসিত ছিল বাবরি মসজিদের যায়গা নিয়ে বিতর্ক। চরম বিতর্কিত ও কট্টরপন্থী বর্তমান বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতেই সেবছর ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় চরমপন্থী সন্ত্রাসি হিন্দুরা। এতে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সমগ্র মুসলিম বিশ্ব। ঢাকাসহ বাংলাদেশের সকল জেলাতেই বিক্ষোভ হয়েছিল। নিন্দা জানিয়েছিল বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সকল রাজনৈতিক সংগঠন। শনিবার (৯ নভেম্বর) ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট থেকে বাবরি মসজিদ নিয়ে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও পূণরায় হিন্দু-মুসলিম সহিংসতা উষ্কে দেয়ার মত।

শনিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ উত্তর গেইটে বাবরি মসজিদ নিয়ে অনৈতিক রায়ের প্রতিবাদে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন আয়েজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এম. হাছিবুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ নিয়ে একটি মিমাংসার রায়ের প্রত্যাশায় ছিল ভারত সহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের মুসলমানগণ। কিন্তু আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট উল্লেখ করে যে অনৈতিক রায় ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট ঘোষণা করেছে, সে রিপোর্টে বাবরি মসজিদের নিচে একটি স্থাপনা ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে কিন্তু আদতে সেই স্থাপনা কিসের তা স্পষ্ট নয়। এধরণের একটি অস্বচ্ছ রিপোর্টের আলোকে একটি সুপ্রিমকোর্ট রায় দিলে সেই সুপ্রিমকোর্টের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলে আমরা মনে করি। তিনি বলেন, ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বাবরি মসজিদের যায়গা বাবরি মসজিদের জন্যই বহাল রাখতে হবে।

বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে বক্তারা ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টকে বিতর্কিত ও অনৈতিক এই রায় বাতিল করে উক্ত যায়গা বাবরি মসজিদের জন্য বরাদ্ধ দিতে ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবী জানান। একই সাথে ভারত সরকারের প্রতি হুশিয়ারী বাক্য উচ্চারণ করে বলেন, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হলে মুসলিম উম্মাহ এর সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ মুস্তাকিম বিল্লাহর সঞ্চালনায় বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল করীম আকরাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল জলিল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, প্রচার ও যোগাযোগ সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক ইউসুফ আহমাদ মানসুর, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক গাজী মুহাম্মাদ ওসমান গণী, আলিয়া মাদ্রাসা সম্পাদক সাইফ মুহাম্মাদ সালমান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য আব্দুল হাসিব গোলদার সহ মহানগর ও ঢাকাস্থ ক্যাম্পাস নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *