পাথেয় রিপোর্ট : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ থেকে রক্ষা পেতে জনগণকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলনে, সরকার ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক লীগের ১৩তম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এই সাইক্লোন মোকাবেলা ও জনগণকে রক্ষায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। সাইক্লোনের পরপরই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সাইক্লোনে যেন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের মানুষের জানমাল বাঁচাবার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ইতিমধ্যে আমরা ট্রাস্ট ফান্ড করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং থেকে বাংলাদেশ যেন রক্ষা পায় সেই কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, পৃথিবীতে বাংলাদেশই মনে হয় একমাত্র দেশ, যেখানে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মদ আয়েশা খাতুন শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজ এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর,বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আজ দুপুর থেকে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।


