‘সিলেটি ভাষায় কুরআন ও হাদীসের ভাব কিছুটা প্রকাশ করা সহজ’
পাথেয় টোয়োন্টিফোর ডটকম : নবীজী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবেসে ‘আঞ্জাইয়া’ ধরতে হবে, আঁকড়ে ধরতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা হলেন রব্বুল আলামিন, নবীজী হলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন। আল্লামা তাআলা নবীজীকে বিশ্বজগতের হেদায়ত ও নাজাতের জন্য রাহমাতুল্লিল আলামিন বানিয়ে পাঠিয়েছেন।
সোমবার (১১ নভেম্বর) বাদ এশা সিলেট শহরের নয়াসড়ক জামে মসজিদে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা সিলেট জেলা শাখা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমার ইসলাহী বয়ানে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
নিজের জীবনের চাইতেও নবীজীকে বেশি ভালোবাসতে হবে মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, নবীজী হলেন সর্বশেষ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম নবী ও রাসূল। তাঁর উপর ঈমান রাখা ও তাঁকে নিজের চেয়েও ভালোবাসা মুমিনের একান্ত কর্তব্য। আমাদের ঈমান শুধু তখনই সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে, যখন নবীজীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা পৃথিবীর সবকিছু, এমনকি আমাদের নিজ জীবন অপেক্ষা অধিক হবে।
দুরুদ নবীপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুরুদ শরীফ গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ আমলের মাধ্যমে একসঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটি মুমিনের আত্মার খোরাক এবং প্রিয় তাসবিহ। আমাদের পেয়ারে নবীজী হযরত মুহাম্মদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তাঁর উপর দরূদ প্রেরণ করা।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, তিনটি কাজ করলে নবীজীকে আঞ্জাইয়া ধরা যাবে, নবীজীকে সঙ্গে রাখা সহজ হয়ে যাবে। এই তিনটি কাজ হলো- ১। নবীজীকে ভালোবাসতে হবে। ২। পূর্ণাঙ্গভাবে নবীজীর ইত্তেবা করতে হবে। ৩। বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়তে হবে। এই তিনটি কাজ করলেই নবীজীকে আঞ্জাইয়া ধরতে পারবো, নবীজীর সঙ্গে জান্নাতে যেতে পারবো।
সিলেটি ভাষার মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আরবী ভাষার ভাব অন্য ভাষায় প্রকাশ করা খুবই কষ্টকর। কোনভাবেই আরবী ভাষার পরিপূর্ণ ভাব অন্যভাষা প্রকাশ করা যায় না। তবে একমাত্র সিলেটি ভাষায় পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের ভাব কিছুটা প্রকাশ করা সহজ হয়।
ইসলাহী বয়ানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর ধনতলা মাদরাসা মুহতামিম ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা রংপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হোসাইন আহমদ, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মাওলানা শোয়াইব আহমদ, হাফিজ আব্দুল্লাহ গাজীনগরী।
আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলাহী ইজতেমা আয়োজক কমিটির সদস্য সিলেট বারুতখানা মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মুফতী আব্দুস সালাম, মাওলানা মনঞ্জুরুল হক চৌধুরী, হাফিজ মাওলানা মাসরুর আহমদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকির, আরিফ রাব্বানী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা সিলেট জেলা শাখার কর্মী মাওলানা নুরুল ইসলাম, দিদার হোসেন চোধুরি, শাহান সিদ্দিকি, মাওলানা মারুফ আল জাকির, প্রমুখ।
ইসলাহী বয়ানের পর প্রোগ্রামে আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।


