‘শায়খে বাঘা ও গাঙ্গুহী রহ.-এর কবর জিয়ারতে একই রকম সুকুন পেয়েছি’
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিলেটের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা বশীর আহমদ শায়খে বাঘা রহ.- এর প্রতি নিজের মুগ্ধতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, আমি মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর খলিফা, মুস্তাজাবুত দাওয়া, আল্লামা বশীর আহমদ শায়খে বাঘা (রহ.) কবর মোবারক জিয়ারত করেছি। আমি অনেক ওলী আল্লাহ, পীর বুযুর্গের কবর জিয়ারত করেছি। বহু বছর আগে কুতুবুল আলম, ইমামে রব্বানী হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করার পর হৃদয় যে শান্তি, যে সুকুন অনুভব করেছি, শায়খে বাঘা (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করে এই শান্তি অনুভব করেছি হৃদয়ে।
নবীজী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নূরে নূরান্নিত হতে চাইলে দরূদ শরীফ পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দরূদ শরীফের মাঝে আল্লাহ তাআলা যে নূর রেখেছেন, অন্য কোন আমলের মধ্যে এই নূর নেই। নামাজের মধ্যে ইবাদতের নূর, রোজার মধ্যে সিয়ামের নূর, হজের মধ্যে কাবা শরীফের নূর, আর দরূদ শরীফের মধ্যে আল্লাহ তাআলা নবীজী সা.-এর নূর রেখে দিয়েছেন।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, দরূদ শরীফের মধ্যে একটা সুগন্ধি আছে, এই সুগন্ধি অনুভব করতে হয়। যদি তুমি দরূদ শরীফের সুগন্ধি না পাও, তাহলে সেটা তোমার নাকের দোষ, তোমার নাক ভালো না।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত পাইনাদি, চিটাগাং রোড, সিদ্ধিরগঞ্জ বাইতুল নূর জামে মসজিদে ইসলাহী মাহফিলে আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
হয়রত খাদিজা রা. নবীজীর দুর্দিনের সাথী ছিলেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, হয়রত আয়েশা রা.-কে রাসূল সা. অনেক ভালোবাসতেন, আর আয়েশা রা. অনেক বড় আলেমা সাহাবী ছিলেন। একদিন আয়েশা রা. নবীজী সা.-কে প্রশ্ন করলেন, আপনি সবসময় খাদিজা, খাদিজা করেন, তাঁর মধ্যে আপনি কি পেয়েছেন?
তখন নবীজী সা. অত্যন্ত রাগ হয়ে বললেন, আয়শা! খাদিজা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করবে না। খাদিজা ছিলেন আমার দুর্দিনের সাথী, যখন সবাই আমাকে অস্বীকার করেছিল, তখন খাদিজাই আমার পাশে ছিলেন, যখন সবাই আমাকে ধুর ধুর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলন, তখন খাদিজাই আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, যখন সবাই আমাকে নিরাশ করেছিল, তখন খাদিজাই আমাকে আশা দিয়েছিলেন। আয়শা, সাবধান, খাদিজা সম্পর্কে সাবধান।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, নবীজী সা. খাদিজা রা.-কে অনেক ভালোবাসতেন, এত ভালোবাসতেন যে, যতদিন খাদিজা রা. জীবিত ছিলেন, নবীজী অন্য কোন বিয়ে করেননি। একদিন খাদিজা রা. নবীজীর পাশে বসা ছিলেন, এমন সময় হযরত জিব্রাঈল আ. আসলেন এবং নবীজীকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনি খাদিজাকে জানিয়ে দেন, আল্লাহ তাআলাকে তাকে সালাম জানিয়েছেন।’
নিজের জীবনের চাইতেও নবীজীকে বেশি ভালোবাসতে হবে মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, নবীজী হলেন সর্বশেষ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম নবী ও রাসূল। তাঁর উপর ঈমান রাখা ও তাঁকে নিজের চেয়েও ভালোবাসা মমিনের একান্ত কর্তব্য। আমাদের ঈমান শুধু তখনই সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে, যখন নবীজীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা পৃথিবীর সবকিছু এমনকি আমাদের নিজ জীবন অপেক্ষা অধিক হবে।
অন্তর চক্ষু খুলার আহ্বান জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, গুণাহের আধিক্যে আমাদের অন্তর কালচে হয়ে গেছে। আমাদের অন্তর চক্ষু বন্ধ হয়ে গেছে। ঈমানের রৌশনিতে অন্তর চক্ষু খুলতে হবে। আল্লাহর নামের জিকির করতে হবে।
ইসলাহী মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবদুর রহিম কাসেমী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, এলাহী নেওয়াজ তালুকদার প্রমুখ।


