ওয়াজ হোক আত্মার খোরাক
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : চারিদিকে এখন শুধু ওয়াজ মাহফিল। শহর- বন্দর, গ্রাম- গঞ্জে সব জায়গাতে ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে। আর বক্তা ভাইয়েরাও ছুটে বেড়াচ্ছেন। এ মাহফিল থেকে অমুক মাহফিল। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা।
বক্তা ভাইয়েরা আজকাল বিভিন্ন ঢঙে ওয়াজ করেন। নানান তরিকা, নানান পদ্ধতি, নানাবিধ পদ্ধতি চালু করেছেন। নিছক ওয়াজ মাহফিলের রূপ খুব কম দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ বক্তা স্রোতা আকর্ষণ, পাবলিক জমানোর কৌশল রপ্ত করে নিয়েছেন।
কেউ আছেন, মাহফিলে হাসি- মজাক করে পাবলিক জমিয়ে থাকেন। কেউ কৌতুক, রসের হাঁড়ি খুলে দেন মাহফিলে। কেউ রসিয়ে রসিয়ে বিভিন্ন ধরনের গল্প- গুজব, কেচ্ছা- কাহিনীর ভাণ্ড নিয়ে বসেন স্টেজে।
আবার কিছু বক্তা নাটকের প্লেয়ার। ওয়াজ মাহফিলের চেয়ারে বসে যে সব ডায়ালগ দেন, তাতে ফিল্মের অভিনেতা – অভিনেত্রীগন হার মানাবে। যখন তারা ওয়াজ করেন, মনে হয়, ওনারা ও পাঁড়ায় ও যাতায়াত করেন!
কিছু বক্তা অশ্লীল বাক্যালাপে পারদর্শি। খিস্তি- খেওড়, অশোভন কথা- বার্তা অনর্গল বের হয় তাদের। নামে তারা আল্লামা, মুহাদ্দিস, মুফতি। কিন্তু ওয়াজের মাফিলের আচরণগুলো একেবারে বে- মানান।
আবার কিছু আছেন, ওয়াজের মাহফিলে চিল্লা- ফাল্লা করেন। সর্ব শক্তি দিয়ে শুধু চিল্লাইতে থাকেন। আর চিল্লাইতে চিল্লাইতে ওয়াজের কোন আগা মাথা ঠিক থাকে না। একটানা দেড় দুই ঘণ্টা শুধু চিল্লানো। স্রোতাদের কোন ফায়দা তো দূরে থাক, বরং সমালোচনা শুনতে হয় মানুষের। এসব বক্তাদের মানুষ নাম দিয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেড বক্তা। আর এদের ওয়াজকে বলা হয়, ” আওয়াজ”। এরা ওয়াজের পরিবর্তে শুধু আওয়াজ ছড়ায় জনতার মাঝে।
অবশ্য এসব ওয়াজে সাধারন জনতার উপস্হিতি একদম কম। কিছু মাদ্রাসার অবুঝ শিশু আর মুষ্টিমেয় ওলামায়ে কেরাম। আসলে ওয়াজ- নসিহত যাদের দরকার, তারা কেউ হাজির হয়না তাদের মাহফিলে।
আবার এক শ্রেণীর বক্তার আবিস্কার হয়েছে, যারা মঞ্চে উঠে শুধু গীবত শেকায়েত করে। অন্যের সমালোচনা। কে কি করল, এসব কথাই তাদের আলোচনার বিষয় বস্তু। উনারা অন্য কোন বক্তা কে সহ্য করতে পারেন না। এমন কি হক্কানী সিলসিলার কোন ওয়ায়েজ বা বক্তাকে ভাল চোখে দেখেন না। বরং অমুক বক্তা কি করেছে, অমুক বক্তা এই করছে, তমুক বক্তা এই সব করছে, এসব বে- ফায়দা আলোচনায় সময় পার করছেন তারা।
আবার কিছু বক্তা গানের শিল্পি। ওয়াজের ষ্টেজে উঠে গান গেয়ে সময় পার করেন। আধুনিক বাংলা- হিন্দি জনপ্রিয় গান নকল করে, এক ধরনের গান বেঁধেছে তারা, যে গুলো শুনলে সে সব গানের কথা স্মরন হয়। আবার সুরসুরি দিয়ে যায় স্রোতাদের।
এরকম নানান বক্তার সমাহার আমাদের দেশে। একেকজন একেক স্টাইলে বয়ান করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় সাধারণ পথহারা মানুষের সঠিক পথের দিশা দেওয়ার বক্তা খুবই কম।
এখন পাওয়া যায়না, আত্মার খোরাক দেওয়ার মত ওয়ায়েজ। যাদের কথায় স্রোতাদের চোখে পানি আসবে। আল্লাহর ভয় তৈরী হবে, জাহান্নামের ভয়, কবরের আজাবের ভয়, এরকম বক্তার অভাব।
তাই আসুন! বক্তা ভাইগণ, স্রোতাদের আত্মার খোরাক দিন। অশ্লীলতা পরিহার করুন। গীবত – শেকায়েত ছেড়ে পথ হারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিন। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


