পাথেয় রিপোর্ট : প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশে দরস প্রদানের অংশ হিসেবে গত ২২ নভেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের হাদীস বিভাগের প্রধান আল্লামা আবদুল্লাহ মারুফী।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের আহ্বানে বিগত বছরগুলোর মত এবারও মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) থেকে পবিত্র বুখারী শরীফের সালাত অধ্যায়ের দরস প্রদান করবেন আল্লামা আবদুল্লাহ মারুফী।
জামিআ ইকরার শিক্ষক মাওলানা শফিকুল ইসলাম পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-কে জানান, মঙ্গলবার বাদ ফজর ইকরার দাওরায়ে হাদীসের কামরায় দরস প্রদান করবেন দারুল উলূম দেওবন্দের হাদীস বিভাগের প্রধান।
মাওলানা শফিক জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু করে ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ ফরজ দরস প্রদান করবেন আল্লামা আবদুল্লাহ মারুফী।
কাকরাইল সার্কিট হাউজ মসজিদের খতীব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রাঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফের কাছে অন্য মাদরাসা শিক্ষার্থীরা দরসে বসতে পরবে কিনা জানতে চাইলে তিনি পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-কে বলেন, দরসে ইফতা বিভাগ ও দাওরায়ে হাদীসের শিক্ষার্থীরা বসতে পারবে। দরস উন্মুক্ত থাকবে। আগেও অন্য অনেক মাদরাসার তালিবুল ইলমরা দরসে বসেছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ, গত শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২ টায় জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ইফতা বিভাগের দরস প্রদান করেছেন জামিআ কাসিমুল উলুম শাহী মুরাদাবাদের মুফতী ও উচ্চতর হাদীস বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক, আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানীর খলিফা, মুফতী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সালমান মানসুরপুরী। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তিনশোর বেশি তামরীন করায় জামিআ ইকরার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
শাহী মুরাদাবাদের মুফতী বলেন, ইফতার বছর পড়ার বছর নয়, ইফতার বছর মূলত তামরীনের বছর। এ বছর তামরীনের মাধ্যমে মাসআলা-মাসাইল শেখাও লেখার মশক করতে হয়। ইফতার বছর যেসব কিতাবগুলো দরসের পড়ানো হয়, সেগুলো পড়ার জন্য নয়, এ কিতাবগুলো তামরীন সম্পর্কে জানা, বুঝা এবং সহায়কের জন্য।
তারমীনের মশকের জন্য মুতালার পরিধি বড়ানোর কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মুফতী সালমান মানসুরপুরী বলেন, মুতলার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। মুতালায় জেহেন খোলে, কিতাব বুঝার যোগ্যতা বাড়ে। যে কোন বিষয় মুতালা করার পর তা নোট করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৫-১৬ সালে মুফতী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সালমান মানসুরপুরীরের পরামর্শে এবং তাঁকে প্রধান মুশরিফ নিযুক্ত করে জামিআ ইকরার বাংলাদেশের ইফতা বিভাগ চলু করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট একটা সময় মুফতি সালমান মানসুরপুরী জামিআ ইকরার ইফতা বিভাগে দরস প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের তামরিন দেখেন।


