অটিজম কোনো সমস্যা নয়, প্রয়োজন ফলপ্রসূ পরিচর্যা

অটিজম কোনো সমস্যা নয়, প্রয়োজন ফলপ্রসূ পরিচর্যা

সচেতনতা। মুহাম্মদ ফয়সুল আলম

অটিজম কোনো সমস্যা নয়, প্রয়োজন ফলপ্রসূ পরিচর্যা

আদনান অটিস্টিক। মা-বাবা, চার ভাইবোনের মাঝে সে সবার ছোটো ও আদরের। বয়স পাঁচ-এ পা দিলে মা ছোটো আদনানকে নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ভর্তি করানোর  জন্য নিয়ে যায়। শিক্ষকরা সাফ না করে দিলে বছর দুয়েক পর পাশের মিশনারি স্কুল আগ্রহের সাথেই তাকে ভর্তি করায়।

কয়েক মাস সেখানে গেলে অন্য শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানেও যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় আদনানের। তারপর থেকে বাসায়ই থাকে সে। মাঝে মাঝে প্রতিবেশীদের বাসায় যাওয়া ছাড়া সামাজিক কোনো কিছুতেই তার আর অংশ নেওয়া হয় না। শুরুতে আদনানের সমস্যা ধরতে না পারলেও পরে ডাক্তার অটিজমের বিষয়ে তার অভিভাবককে নিশ্চিত করে। আদনানের বয়স এখন ২২। ভাইবোনেরা  নিজস্ব সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পাড়ায় বৃদ্ধ মা-বাবার পক্ষে আদনানের সেবা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। দিনের বেশির ভাগ সময় বাসার পাশে মাঠের এক কোনায় বসে সময় কাটায় সে। মশা-মাছি, পোকামাকড়ের মধ্যেও বসে থেকে, খেয়ে-ঘুমিয়ে পার হচ্ছে আদনানের দিনগুলো।

আমাদের দেশে আদনানের মতো অসংখ্য শিশু রয়েছে যারা অটিজম ও অন্যান্য স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। আদনানের মা-বাবার মতো অসংখ্য অভিভাবক গ্রামে, মফস্বল শহরগুলোতে রয়েছেন যাদের সন্তানদের কোনো বিদ্যালয়ে পড়ানোর ইচ্ছা এখনো অপূর্ণই থাকছে, এমনকি অনেকেই জানে না সন্তানের সমস্যাটা কি? তবে রাজধানীর কিছু বিত্তবান ও সচেতন মাতা-পিতার সন্তানরা এখন বিজ্ঞানসম্মত বিশেষ শিক্ষা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সন্তানের যত্ন করার সুযোগ পাচ্ছে।

অটিজম সম্পর্কে বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গী অনেকাংশে নেতিবাচক। অনেকে বিষয়টি সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ বলেও মনে করে। অটিজম শব্দটি গ্রীক শব্দ ‘অটোস’ থেকে এসেছে। এর অর্থ স্বয়ং বা স্বীয় বা নিজ। আর ইংরেজি অটিজম এর বাংলা অর্থ আত্মসংবৃতি বা মানসিক রোগবিশেষ। এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা অস্বাভাবিকভাবে নিজেদের গুটিয়ে রাখে। এজন্য এটিকে অটিজম নামকরণ করা হয়েছে।

অনেকেই অটিজমকে সিজোফ্রেনিয়া বলে ভুল করেন। ১৯৪৩ সালে আমেরিকার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ লিও ক্যানার সর্বপ্রথম মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে রোগটি সনাক্ত করেন এবং অটিজম শব্দটি ব্যবহার করেন। দ্য আমেরিকান হেরিটেজ ডিকশনারি অব দ্য ইংলিশ ল্যাগুয়েজ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী অটিজম হলো শিশুর বিকাশজনিত অসমর্থতা, যার বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রবল ঘাটতি এবং ক্রিয়াকলাপ ও মনোযোগের চরম সীমাবদ্ধতা এবং  নিদিষ্ট কিছু আচরণের পুনরাবৃত্তি। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ, সামাজিক আচরণ, সামাজিক কল্পনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা লক্ষণীয়। অটিজম নামক এই ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারটি সাধারণত জন্মের প্রথম তিন বছরে প্রকাশ পায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অটিজম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বেশ অস্পষ্টতা রয়েছে, আছে নানা কুসংস্কার। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস্- মস্তিকের স্বাভাবিক বিকাশের এমন একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা, যা শিশুর জন্মের দেড় বছর থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকাশ পায়। এ ধরনের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাধারণ শারীরিক গঠনে তেমন কোনো সমস্যা বা ত্রুটি থাকে না এবং তাদের চেহারা ও অবয়ব অন্যান্য সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতোই হয়ে থাকে। তারা অন্যের সাথে যথাযথ যোগাযোগ করতে পারে না। এরা সাধারণত ভাষার সঠিক ব্যবহার করতে পারে না এবং নিজের ভিতর গুটিয়ে থাকে। তবে এরা অনেক ক্ষেত্রেই অনুকরণ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গান করা, কম্পিউটার চালনা বা গাণিতিক সমাধানসহ অনেক জটিল বিষয়ে এরা বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে।

বর্তমানে সারা বিশ্বে অটিজম নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। এ সমস্যার প্রকৃত কারণ এখনো চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেনি। তবে কেউ কেউ মনে করেন, অটিজমের পিছনে জিনগত সমস্যা ও পরিবেশের বিষাক্ত উপকরণের প্রভাব রয়েছে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ডিএনএ জিনে কপি নম্বর অব ভেরিয়েন্ট (CNV) নামক ত্রুটি বহন করে। পরিবেশের বিষাক্ত উপকরণ জিনের ওপর কাজ করে স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে।  যেসব রাসায়নিক দ্রব্য অটিজমের জন্য দায়ী তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মার্কারি, লেড, পেস্টিসাইড; গর্ভাবস্থায় মার ধুমপান, এলকোহল বা ক্ষতিকর ঔষধ এসবের প্রভাবে অটিস্টিক শিশুর জন্ম হতে পারে।

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর/ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হতে নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে সরকারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। যেমন-অটিজম, ডাউন সিনড্রোম, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা ও সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় ২০১৩  সালে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩; প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এবং বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮” প্রনয়ণ করা হয়েছে। এই আইনটির ফলে দেশের বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কিংবা দুর্ঘটনার ফলে পঙ্গুত্ববরণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি পুর্নবাসন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা ২০১৯ ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অটিস্টিক শিশুসহ বিদ্যালয় গমনোপযোগী সকল শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম লক্ষ্য। সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অটিস্টিক শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাশনাল অটিজম এন্ড নিউরো ডিসঅর্ডার এডভাইজরি কমিটি এবং গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ এর চেয়ারম্যান সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এর নেতৃত্বাধীন Global Autism Public Health Bangladesh (GAPH) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এক দশকে বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ১৪টি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় টাস্কফোর্স। ৮টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ-এর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি। এর মধ্যে প্রথম সারির ৫টি হলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেসরকারি পর্যায়েও অনেক প্রতিষ্ঠান অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করতে উৎসাহী হয়েছে। অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন কখনও সরাসরি, কখনও ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

অটিজম বিষয়ে সাধারণ মানুষদের সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০৯ থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি তাদের পিতামাত ও অভিভাবককেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ যাবৎ অনুষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে অটিস্টিক শিশুর ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে ১৫টি ব্যাচে ৪৭২ জন মাতাপিতাকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এ সকল প্রশিক্ষণ পরিচালনায় অটিজম বিষয়ে দক্ষ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, এনজিও প্রধানসহ ভিন্ন ভিন্ন পেশায় দক্ষ প্রশিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। স্নায়ুবিকাশের ভিন্নতার প্রধান ধরনগুলো হলো-অটিজম, ডাউনসিনড্রোম, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা ও সেরিব্রাল পালসি।

সরকার অটিজমে আক্রান্তদের  কল্যাণে বদ্ধপরিকর তাই রাজধানীতে অটিজম সংক্রান্ত অনেকগুলো চিকিৎসা সহায়তাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইন্সটিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিসঅর্ডার এন্ড অটিজম (IPNA), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, চাইল্ড গাইডেন্স ক্লিনিক, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, প্রয়াস বিশেষায়িত স্কুল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর শিশুরোগ/মনোরোগবিদ্যা বিভাগ সে প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।

তাছাড়া সারাদেশে জেলা সদর হাসপাতাল/উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও বিশেষায়িত স্কুল, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে এ সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সারাদেশে ১০৩টি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

টঙ্গীস্থ ইআরসিপিএইচ কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় স্থাপিত মৈত্রী শিল্প কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্লাস্টিকসামগ্রী যেমন: বালতি, জগ, মগ, বদনা, গ্লাস, হ্যাঙ্গার উৎপাদন করা হয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় সরকার অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রসহ অন্যান্য অনেক কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ জীবন গঠনের পথকে আরো প্রসারিত করবে। বর্তমান সরকার জনপ্রতি মাসিক ৭৫০ টাকা হারে ১৫ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ভাতা প্রদান করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা সুস্থ পরিচর্যা পেলে স্বাভাবিকভাবে সবার সঙ্গে মিলে চলতে পারবে। তিনি বলেন অটিজম আক্রান্ত শিশুরা কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী হয়, তাই তাদের মধ্যে যে সুপ্ত জ্ঞান ও প্রতিভা থাকে, তা কাজে লাগাতে হবে।

সরকারের পাশাপাশি সূচনা ফাউন্ডেশন, প্রয়াস,সোয়াক, সিডিডি, পিএফডিএ, স্কুল ফর গিফটেড চিলড্রেন, সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব দ্য ইন্টেলেকচুয়ালি ডিজএ্যাবল (সুইড) বাংলাদেশ, সীড ট্রাস্ট, অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, বিউটিফুল মাইন্ড, নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন, এফএআরইসহ আরও অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদার, সমাজ হিতৈষী ব্যক্তি, অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজিএবলিটিস এর বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আন্তরিকভাবে যদি অটিস্টিক ব্যক্তিদের কল্যাণে কাজ করা যায়, বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভিলক্ষ্যের ভিত্তিতে সকলের জন্য সমঅধিকার,  ন্যায়পরায়ণতা ও সুন্দর কর্মস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার গৌরব অর্জনে সক্ষম হবে।

অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্ভাবনা বয়ে আনবে। অটিজম বৈশিষ্টের শিশুর সার্বিক উন্নয়নে সচেতনতাই মুখ্য। পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সঠিক পরচর্যা ও মানুষের ভালোবাসাই পারে এ থেকে মুক্তি দিতে, পরিবার ও সমাজে মানুষের ইতিবাচক মনোভাব ও সচেতনতাই পারে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দিতে।

লেখক : কলামিস্ট

১৭.১১.২০১৯

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *