ওয়াদা করুন, আর গলা কাটবেন না

ওয়াদা করুন, আর গলা কাটবেন না

ওয়াদা করুন, আর গলা কাটবেন না

মাওলানা আব্দুল্লাহ :: আস্তে আস্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে যাচ্ছে। একেবারে বাচ্চা- কাচ্চা সহ। মিঁউ মিঁউ করতে করতে। আমরা অবশ্য এতটা আশা করিনি। কেননা তিনি একজন সন্মানী মানুষ। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে অনেক ইজ্জত দান করেছেন। কিন্তু এখন যেভাবে শুরু হয়েছে, তাতে আর কেউ বাকি থাকবে না।

এজন্য কোন দলিল প্রমাণ ছাড়া শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কোন কিছু বলা ঠিক নয়। স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া কারো প্রতি কোন ধরনের বদগোমানী করা মোটেও সমীচিন নয়।

ওয়াজ ব্যবসায়ী কারা? গলাকাটা বক্তা কে? এগুলো এখন জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য হাদীসে আছে, কেউ যদি কারো জন্য কুয়া খনন করে, তাহলে সেই কুয়ার মধ্যে সে আগে নিজে পতিত হয়।

একজন সহজ – সরল, নম্র- ভদ্র মানুষকে জোর করে গলাকাটা ওয়ায়েজ বানানোর অপচেষ্টা করতে গিয়ে, নিজেই জাতির সামনে নাঙা হয়ে গেলেন। তিনি কখন কোথায় কোথায় গলা কেটেছেন, সে গুলো মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হল। এদেশের মানুষ সবাই জেনে গেল।

এজন্য কারো দোষ ধরার আগে নিজের ব্রাকগ্রাউন্ড দেখা চাই। নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটু ভাবা চাই।

তিনি নিঃসন্দেহে একজন প্রতিভাবান আলেম, মুনাজিরে জামান, বাতিলের আতংক, আলেম সমাজের গৌরব। তবে তাই বলে তাঁর থেকে দায়িত্ব জ্ঞানহীন বক্তব্য কেউ আশা করেনা। একটা ভরপুর মজলিসে অন্যকে খাটো করা মোটেও ভদ্রতা নয়।

এরপর তিনি যে সাউন্ড গ্রেনেড বক্তার গুন কীর্তন করলেন, ঐ বক্তা সাহেবের আসল রুপ কি জানেন না? একজনের অভ্যন্তরিণ বিষয় না জেনে, যে যতটুকুর যোগ্যতা রাখেনা, তাঁর সম্পর্কে বাড়ায়ে বলা কি বৈধ?

সাউন্ড গ্রেনেড বক্তা সহ রাবেতাতুল ওয়ায়েজীনের অধিকাংশ দায়িত্বশীল ওয়াজের ময়দানে গলাকাটা ব্যবসা করে যাচ্ছেন। কিন্তু দেখারও কেউ নেই, আবার বলার ও কেউ নেই।

ওনারা কেউ ওয়াজ মাহফিলে পঁচিশ/ত্রিশ হাজারের নিচে নেয়না। আবার কেউ যদি কোথাও থেকে কোন কারণে টাকা কম দেন, তাহলে পরের বছর আর সেখানে দাওয়াত নেন না।

এমন কৌশল তারা তৈরী করেছেন, আপনি সরাসরি দাওয়াত দিতে গেলে দেখবেন, ডায়েরি খালি নেই। কিন্তু জেলা বা আঞ্চলিক মিডিয়ার মাধ্যমে ওনারা দাওয়াত গ্রহণ করেন। মিডিয়ার কাছে আদ্যপ্রান্ত সব শোনা যায়। মিডিয়া আপনাকে জানিয়ে দিবে হাদিয়ার পরিমাণ। ওর থেকে কম হলে কিন্তু হবেনা।

আরেকটা বিষয় আমাকে খুব নাড়া দিচ্ছে। ঐ যে সাউন্ড গ্রেনেড বক্তা এবং তার কিছু সাঙ্গ- পাঙ্গ গত বছর এক বয়োজৈষ্ঠ্য আলেম কে মিথ্যা তোহমত দিয়ে রাজপথে বক্তব্য দিয়ে ছিলেন। আর নিরীহ মাদ্রাসার ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে সেই মুরুব্বী আলেমের দাঁড়ি- টুপি সম্বলিত ছবি পদ দলিত করে ছিলেন। আবার তার হুকুমে সেই মুরুব্বী আলেমের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছিল।

আমরা কিন্তু নিরবে সহ্য করেছিলাম। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল তখন। এবার দেখুন! “আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর”। এখন সাউন্ড গ্রেনেড বক্তা এবং তার চেলা- চামুন্ডাদের গলাকাটা ওয়াজ ব্যবসার গোপন রহস্য বেরিয়ে আসছে। এখন জাতির সামনে অপমানিত হতে হচ্ছে। আরো যে কত কি হবে আল্লাহ ভাল জানেন।

ঐ ওয়াজ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মায় জাতি আজ দিশেহারা। কোথাও ওয়াজ মাহফিল হলে কর্তৃপক্ষের কত কষ্ট করতে হয়।একটাকা, দুই টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকা করে কালেকশন করে টাকা জমা করেন তারা। আর সেই টাকাগুলো ওনারা নিয়ে আসেন।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কি ওয়াজ- নসিহত করা যায় না? একই দিনে তিন চারটে মাহফিল করতে হবে কেন? আর করলেও সব জায়গার থেকে মোটা অংকের টাকা কেন নিতে হবে?

আপনারা রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন করেছেন, ধন্যবাদ আপনাদের। তবে এই সংগঠন এর চিন্তা- চেতনা হবে আমরা কারো গলাকাটব না। কোথাও ওয়াজে গেলে রাহা খরচ ছাড়া আর অতিরিক্ত হাদিয়া নিব না। যদিও কর্তৃপক্ষ দেয়, সেটা ফেরত দিয়ে দেব।

ওয়াজকে নিজের সংসার চালানোর মাধ্যম বানাবো কেন? আর এত আড়ম্বরী জীবনযাপন কেন করতে হবে?

বক্তাদের গাড়ী এখন নিউ মডেলের। প্রিমিয়াম, এলিয়ন, সবই গলাকাটা ওয়াজের টাকার গাড়ি। এগুলো কেন কিনতে হবে ওয়াজের টাকায়।

আমাদের আকাবিরগণ বাস- ট্রেন- রিকসা- ভ্যানে চড়ে ওয়াজ করতে গিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ যা দিয়েছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থেকেছেন তারা। কিন্তু এখন বক্তাদের হাইফাই গাড়ি। সাঁ সাঁ করে আসেন, আবার একটা মেরে আরো দুই তিনটে মারার ধান্দা করেন।

এখন হয়েছে পয়সা কামানোর ধান্দা। ইখলাসের সাথে দ্বীনের প্রচার করার মানসিকতা নেই। এজন্য অনুরোধ আপনাদের প্রতি। কারো প্রতি খামাখা বদগোমানী পরিহার করুন। ওয়াজকে ব্যবসা হিসেবে না নিয়ে, নিজের কর্তব্য হিসেবে করুন। আল্লাহ তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *