পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে বর্তমান সরকার কঠোর না হলে পাকিস্তান থেকে আলিয়া-মালিয়া-জামালিয়া এসে ভারতীয় সেনাদের মাথা কেটে নিয়ে যেতো বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) হিমাচলে ক্ষমতায় আসার দুবছর পূর্তির অনুষ্ঠানে শিমলায় এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে আক্রমণ করে বলেন, কংগ্রেস ১০ বছর শাসন করেছে। ক্ষমতায় ছিল সনিয়া গান্ধী-মনমোহন সিং সরকার। প্রতিদিন পাকিস্তান থেকে আলিয়া-মালিয়া-জামালিয়া আসত, আমাদের জওয়ানদের মাথা কেটে নিয়ে যেত, নীরব থাকতেন দেশের প্রধানমন্ত্রী’। খবর এনডিটিভির।
তিনি বলেন, ‘সেখানকার মাটিতে হানা দিয়ে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিতে পেরেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। অমিত শাহ বলেন, ‘আলিয়া-মালিয়া-জামালিয়া (পাকিস্তান) থেকে আসত প্রত্যেকদিন এবং ‘ভারতীয় সেনাদের মারত’, তবে তা থামিয়েছে বিজেপি’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সীমান্ত খুলে রাখত। যখন নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এলেন, পাকিস্তান ভাবল, এভাবেই চলবে। তারা বুঝতে পারেনি, এটা কংগ্রেস সরকার নয়…এটা বিজেপি সরকার’।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘মৌনিবাবা মনমোহন সিং আর প্রধানমন্ত্রী নন, ৫৬ ইঞ্চির ছাতি নরেন্দ্র মোদির। উরি, পুলওয়ামায় হামলা চালিয়ে তারা বড় ভুল করেছে। তবে মোদি সরকার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বিমান হানা দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাদের ঘরে ঢুকে সেখানকার জঙ্গিদের ওপর আমরা হামলা চালিয়েছি’।
নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই, জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জি এবং এনআরসি নিয়ে বাখ্যা দেন অমিত শাহ। পাশাপাশি রাহুল গান্ধির উদ্দ্যেশে চ্যালেঞ্জও দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। কংগ্রেস ও তাদের সঙ্গীরা গুজব রটাচ্ছে যে, সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব, নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে কেড়ে নেয়া হবে।
অমিত শাহ আরও বলেন, ‘আমি রাহুল ‘বাবা’কে চ্যালেঞ্জ করছি, একটা ধারা দেখান হোক, যেখানে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে’।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারও নাগরিকত্ব নেড়ে নেয়ার কোনো ধারা এই আইনে, এমনকী তিনি সংখ্যালঘু হলেও নয়।
সরকারের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে তিনটি অমুসলিম প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সহজ হবে, যারা ২০১৫ সালের আগে ভারতে এসেছেন।


