মাওলানা আশরাফ আলীর জানাযায় শেখ আব্দুল্লাহর অশ্রুসজল চোখ

মাওলানা আশরাফ আলীর জানাযায় শেখ আব্দুল্লাহর অশ্রুসজল চোখ

মাওলানা আশরাফ আলীর জানাযায় শেখ আব্দুল্লাহর অশ্রুসজল চোখ

মুহাঃ সারোয়ার আলম ভুইয়া :: জানাজার আগে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট হাফেজ শেখ আব্দুল্লাহ মহোদয় এর অশ্রুসজল কাতর কণ্ঠের বক্তব্য আমাকেও শোকাহত করেছিল।চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছিল আমারও। ব্যক্তি জীবনে শাইখুল হাদীস মাওলানা আশরাফ আলী রহ.দরদী স্বভাবের চমৎকার মানুষ ছিলেন। কথা বলায় বিনয়-নম্রতা ফুটে উঠতো।অতিথিপরায়ণ এ বটবৃক্ষতুল্য এ আকাবির, মানুষকে মূল্যায়ন ও আপ্যায়ন করা হযরতের চরিত্রের একটি প্রশংসনীয় দিক ছিল।আমি নিজেই তাঁর এক প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ।

মন্ত্রী মহোদয় আবেগঘন কন্ঠে বলে যাচ্ছিলেন, দেশ জাতীর কল্যাণ হয় এমন কোন প্রসঙ্গ এলেই ফোন হাতে নিয়ে আমাকে বলতেন, আব্দুল্লাহ মিয়া…… আপনি এ কাজটি করেন, সে কাজটি করেন।সে আলোকে আমি হুজুরের নির্দেশ শীর ধার্য্য মনে করতাম। আর অবশ্যই পালনীয় মনে করে কাজটি করতাম।

কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের স্বীকৃতি আওয়ামীলীগ সরকার দেয়ায় যারপর নাই খুশি হয়ে ছিলেন মরহুম শাইখুল হাদীস রহমতোল্লাহি আলাইহি। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কওমীদের এই প্রাণোর দাবিটি তিনি পূরন করতে পেরে তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি মরহম রহ. এর জিন্দেগীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন।

স্বীকৃতি আদায়ের নেপথ্য কাড়িগর আজ শুয়ে আছেন জানাজার অপেক্ষায়।সনদের বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে মরহুম শাইখ এই হাফেজে কুরআন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রিয় মানুষে পরিণত হয়েছিলেন।

স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে দু চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল। খুব কাছে দাঁড়িয়ে অপলক নেত্রে তাকিয়ে আছি আমি।

মনে পড়ছিল দুটি চরণ,
“এমনো জীবন করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন”

ইংরেজী বছর ২০১৯ সালের শেষ দিন, চোখের পানিতে ভাসিয়ে চলে গেলেন, এ দেশের শীর্ষ স্থানীয় শাইখুল হাদীস, কওমী অঙ্গনের দরদি রাহবার,আমার উস্তাদেরও উস্তাদ, আমার দু সন্তানের উস্তাদ, শাইখুল মাশায়েখ আল্লামা আশরাফ আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।কুমিল্লা সদর দক্ষিণর নিজ গ্রাম ‘পল্ডার পাড়ে’ চীর নিদ্রায় শায়ীত হলেন।

আল্লাহ হুজুরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুক।

লেখক : ভাইস প্রেসিডেন্ট, আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *