ওলামায়ে কেরামের ঐক্য ও তাবলীগের দুর্বার গতি
মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। আরো অনেক গতিশীল হয়েছে। আলেম -উলামার সম্পৃক্ততায় তবলীগের কাজ এখন আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে। ওলামায়ে কেরাম যে আগে এ কাজের সাথে জড়িত ছিল না তা নয়। আলেমগণ তো এ কাজের গোড়া- পত্তন করেছেন। ওলামায়ে কেরামই তাবলীগের কাজ পরিচালনা করে আসছেন যুগ যুগ ধরে।
তবে বিগত বছর থেকে আলেমগন আগের থেকে অনেক এ্যাডভান্স। সক্রিয়ভাবে এখন তাবলীগে জড়িয়ে পড়েছেন। কিছু আলেমের আগে তাবলীগের ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। আলহামদুলিল্লাহ, এখন সকল স্তরের ওলামা- মাশায়েখ তাবলীগের কাজের সাথে। এখন আর কেউ পিছে পড়া নয়। সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে তাবলীগে জুড়ে গেছেন। যার কারণে তাবলীগের কাজ এখন অনেক গতিশীল হয়েছে।
কিছু দিন আগে যশোর ইজতেমা হল। আসলে সেটা ছিল চিল্লার সাথীদের জোড়। সেই জোড়টাই বিশাল ইজতেমায় রূপ নিল। যশোরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লোক সমাগম। এর আগে কখনো দ্বীনদার মুসল্লিদের এত বড় সমাবেশ হয়নি।
বর্তমান টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা চলছে। এটাও এখন সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ ইজতেমা। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে গেল। সবচেয়ে বেশী লোক সমাগম এবার। এর আগে কখনো এত্ত বড় সমাগম দেখা যায়নি। টঙ্গীর ময়দান তো ভরে গেছে দুদিন আগে। এখন তো আশে পাশের মসজিদ মাদ্রাসা রাস্তা- ঘাট সব ভরে গেছে। কোথাও আর তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এক আজীব দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছে এবার।
আসলে এই জনস্রোতের কারণটা কী? চিন্তা করলে অনেক কিছু বুঝে আসে। তবে মানুষের মুখে যেটা শোনা যাচ্ছে, ওলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধতা, আলেম সমাজের তাবলীগের সাথে সম্পৃক্ততা, তাবলীগের মধ্যে এক গতির সঞ্চার হয়েছে। কেননা, আলেম- উলামার প্রতি রয়েছে, মানুষের পরম আস্থা। মানুষ আলেমদের ভালবাসে। আলেম- উলামা কোন কাজে সম্পৃক্ত হলে, সাধারণ জনতা কিন্তু সেদিকে ধাবিত হয়। বর্তমানের এই ইজতেমা সেটাই প্রমাণ করছে।
শুধু তাবলীগের কাজ বলে কথা নয়, ওলামায়ে কেরাম যেখানে সাধারণ মানুষ কিন্তু সেখানে। ওলামায়ে কেরাম কোন কাজে ঐক্যবদ্ধ হলে, সেখানে সর্বস্তরের মানুষ ঝাপিয়ে পড়ে। এজন্য আলেম সমাজের একতা বড় প্রয়োজন। হক- হক্কানিয়্যাতের উপর অটল অবিচল থেকে আলেমগণের মাঝে ইত্তেফাক দ্বীনি কাজ এগিয়ে যাবে অনেক দুর। দ্বীন ইসলামের বিজয় থাকবে সুনিশ্চিত।
এই দাওয়াত ও তবলীগ একটা হক পন্হী জামাত তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই কাজ অনেক মোবারক কাজ। একটা দামী কাজ। এই কাজে যেভাবে আলেমগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, জাতিকে এই কাজের গুরুত্ব ফজীলত বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, ঠিক আরো যে সব দ্বীনি কাজ রয়েছে, সে সব বিষয় গুলোতে আলেম সমাজের একতা জরুরি। তাহলে সে সব দ্বীনি কাজ সাকসেস হতে সময় লাগবে না।
এমন এমন কিছু বিষয় আছে যে গুলো ওলামায়ে কেরাম নির্ধিদ্বায় ঐক্য গড়তে পারেন। দলমত নির্বিশেষে এক প্লাট- ফরমে দাঁড়াতে পারেন। তারমধ্যে একটা বড় বিষয়, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষনা। এই কাদিয়ানীরা ইসলামের দুশমুন,নবীর দুশমুন, এব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। সব আলেম এই একই দাবীতে অনড়। এখন যদি এক অভিন্ন প্লাট- ফরমে আলেমগণ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান, তাহলে সেই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখবে বলে আশা করা যায়।
পরিশেষে বিশ্ব ইজতেমার শুভ কামনা। আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। এই কাজকে আরো সমৃদ্ধ করুন। এই কামনা।
লেখক : শিক্ষক


