ওয়াজের কিতাবি শেকল দিলে কী হবে?
সগীর আহমদ চৌধুরী :: বছরের তিনশত পঁয়ষট্টি দিনের সম্ভবত তিনশত ষাট দিনেই মাহফিল, তাও দিনে কম হলে দুটো করে। প্রশ্নটি হচ্ছে, এভাবে বছর বছর করা মাহফিলের সবগুলো বয়ান একত্র করলে নিশ্চয় শত টেরাবাইটের কয়েকটি হার্ডডিক্স লাগবে। কিন্তু যদি এসবের কিতাবি শেকল দিতে যান তাহলে আমি নিশ্চিত যে, সবগুলো বয়ান মিলিয়েও শখানেকের বেশি এর পৃষ্ঠাসংখ্যা দাঁড়াবে না।
“খুতবাত” নামে একটি জিনিস আছে, ইসলামি সাহিত্যে এর বেশ দখল, এটি এর বড় অনুচ্ছেদও বটে। সমগ্র মুসলিম মনীষীদের কথা বাদই দিলাম, শুধু ওলামায়ে দেওবন্দের খুতবাতের যে সামগ্রী আছে তার একটি পিডিএফ সংগ্রহ আছে আমার কাছে। একাধিক খণ্ডে বিভক্ত সেসব খুতবাতের সংখ্যা ত্রিশের অধিক। যথা- (সংগ্রহের ক্রমানুসারে)
১. মাজালিসে সিদ্দীক (একাধিক খণ্ড),
২. নূরানী মাহফিলেঁ (একাধিক খণ্ড),
৩. খুতবাতে মাহমূদ (৯ খণ্ড),
৪. ফয়যানে মা’রিফত (৫ খণ্ড),
৫. তালিবাত তাকরীর কেইসেঁ করেঁ? (১০ খণ্ড),
৬. সিলসিলায়ে মাওয়ায়িযে হাসানা (দুই শতাধিক বিষয়ে),
৭. খুতবাতে রহীমী (১০ খণ্ড),
৮. খুতবাতে মুফাক্কিরুল ইসলাম (৬ খণ্ড),
৯. খুতবাতে হিব্বান (১০ খণ্ড),
১০. মাজালিসে হাবীবুল উম্মাত (২ খণ্ড),
১১. খাওয়াতীন কেলিয়ে তাকারীর (৩ খণ্ড),
১২. খুতবাতে রামাযানুল মুবারক (৪ খণ্ড),
১৩. তাফসীরী খুতবাতে হিব্বান (একাধিক খণ্ড),
১৪. ইসলাম আউর হামারী জিন্দেগী (১০ খণ্ড),
১৫. ইসলাহী তাকরীরীঁ (৯ খণ্ড),
১৬. ইসলাহী খুতবাত (২৩ খণ্ড),
১৭. ইসলাহী মাজালিস (৭ খণ্ড),
১৮. ইসলাহী মাওয়াযিয (৮ খণ্ড),
১৯. ইফাদাতে ফারূকী (৯ খণ্ড),
২০. তাজাল্লিয়াতে সাফদর (৭ খণ্ড),
২১. জাওয়াহিরাতে হাকীমুল উম্মত (৪ খণ্ড),
২২. খুতবাতে হাকীমুল ইসলাম (৫ খণ্ড),
২৩. খুতবাতে হাকীমুল উম্মত (৩২ খণ্ড),
২৪. খুতবাতে আলী মিয়া (৮ খণ্ড),
২৫. খুতবাতে ফকীর (৪৩ খণ্ড),
২৬. খুতবাতে কাসিমী (৭ খণ্ড),
২৭. মাওয়ায়িযে আশরাফিয়া (১০ খণ্ড),
২৮. মাওয়ায়িযে দরদে মুহাব্বত (৯ খণ্ড),
২৯. মালফূযাতে হাকীমুল উম্মত (৩০ খণ্ড),
৩০. নেদাযে মিম্বর ওয়া মিহরাব (৭ খণ্ড),
৩১. খুতবাতে জুমুআ (২ খণ্ড),
৩২. খুতবাতে ইহতিশাম (৭ খণ্ড),
৩৩. খুতবাতুর রশীদ (৭ খণ্ড) ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাঁদের বয়ানে ইলম-হিকমতের মণি-মুক্তো পাওয়া যায়, সোনা-জওহারাত পাওয়া যায়। এজন্য তাঁর প্রতিটি লফয এভাবে সংরক্ষিত হয়েছে উম্মতের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। তাঁদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তাঁরা পড়াশোনা করতেন, অধ্যয়ন করে বয়ান করতেন, মানুষের ইসলাহ, সমাজ-সংস্কার ও যুগসমস্যার সমধানে উপযোগী বয়ান পেশ করতেন।
ধর্মীয় বিবাদ, মুবাহাসা-মুনাযারা কিংবা ফেরকাবাজির উপসর্গ খুব কমই দেখতে পাওয়া যায় তাঁদের আলোচনায়।
লেখক : বিশ্লেষক


