রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বাস্তবায়িত হোক

রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বাস্তবায়িত হোক

রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বাস্তবায়িত হোক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর চলা অমুসলিমদের খড়্গহস্ত প্রমাণিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদালতে। যারা মানবতার পক্ষে কাজ করতে উদ্যত হয়েছে তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। বিশ্বের সবাইকে রোহিঙ্গা সমস্যা দূর করার জন্য এগিয়ে আসা উচিত।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম, কর্তৃত্ববাদী শাসকদের ভ্রুকুটির মুখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন আইনের শাসন ও মানবাধিকার নির্বাসনে যেতে চলেছে, তখন নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আফ্রিকার ক্ষুদ্র মুসলিম দেশ গাম্বিয়ার দায়েরকৃত অভিযোগের শুনানি শেষে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালত অন্তর্র্বতীকালীন চার আদেশে নিপীড়ন থামানোর নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বা কোনো পক্ষ এমন কিছু করতে পারবে না, যা গণহত্যা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

আদালত মনে করে, মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা জেনোসাইড কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী একটি ‘প্রটেকটেড গ্রুপ’। ২০১৭ সালে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযানের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী তারা আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি ও বেসামরিকদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি। তাই অনেক বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে গাম্বিয়ার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিজের ১৭ সদস্যের বিচারক প্যানেল এ আদেশ দেয়। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার অভিযোগ ছিল, দুই বছর আগে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানে যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে ১৯৮৪ সালের আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন ভঙ্গ করেছে মিয়ানমার। দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ মামলার ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়। তাতে গাম্বিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিচারবিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদু। অন্য পক্ষে ছিলেন মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চলেছে ফ্যাসিস্ট কায়দায়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধবাদীরা রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যাও চালিয়েছে।

মিয়ানমার গণহত্যার কথা তার খবরে অস্বীকার করলেও মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের কথা স্বীকার করেছে। দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের অন্তর্র্বতীকালীন রায়ে বড় মাপে রোহিঙ্গা ও তাদের জন্য আদালতে অভিযোগ দায়েরকারী গাম্বিয়া এবং পেছনের শক্তি বাংলাদেশের জয় হলো। আমরা মনে করি, মিয়ানমারের সুমতি ফেরাতে আদালতের নির্দেশ ভূমিকা রাখবে। যদিও মিয়ানমারে আবারও গণহত্যা শুরুর খবর পাওয়া গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *