পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: পদত্যাগ প্রশ্নে সরাসরি ‘না’ বলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিইসির পদত্যাগ দাবি করে। এছাড়া আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির পক্ষ থেকেও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
‘পদত্যাগ করবেন কি-না’, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসির দাবি, ‘নির্বাচন তো ভালো হয়েছে, সুষ্ঠু হয়েছে। যারা ভোট দিতে গিয়েছেন, তারা সবাই ভোট দিয়েছেন। কেউ বলেননি, ভোট দিতে গিয়েও পারেননি। এখানে তো পদত্যাগের কোনো প্রশ্ন আসে না।’
কত শতাংশ ভোট পড়েছে প্রশ্নে ৩০ শতাংশের নিচে ভোট ভোট পড়েনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তা তো বলা যাচ্ছে না। তবে ৩০ শতাংশের নিচে বলে মনে হয় না।’
শনিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধান নির্বাচন কমিশনরা নূরুল হুদা।
এর আগে সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিইসির সঙ্গে দেখা করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘বের করে দেয়ার ব্যাপারে কোনো এজেন্ট অভিযোগ করেননি। আমি যেখানে ভোট দিতে গিয়েছি, সেখানে সব দলের এজেন্ট ছিলেন। আর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার দায়িত্ব তাদের। ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হলে অভিযোগ করতে হবে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি পাইনি, নির্বাচন কমিশনও পায়নি।’
ইভিএমের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা ইভিএমে ভোট দিয়েছেন, তারা কেউই বিরোধিতা করেননি। ইভিএম খারাপ সে কথাও কেউ বলেননি। ভোট দেয়া জটিল, কেউ কেউ বলেছেন। এ কারণে ভোট দিতে দেরি হয়েছে। অধিকাংশ ভোটার বলেছেন যে, ইভিএমে ভোট দিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। ইভিএমে সহজে-সঠিকভাবে ভোট দেয়া সম্ভব হয়েছে।
ভোটারদের আঙুলের ছাপ রেখে বের করে দেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি।’
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ একযোগে শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল ৪টায়। প্রাপ্ত ফলাফলে দুই সিটির আওয়ামী লীগের দুই মেয়রপ্রার্থী বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিজে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি নূরুল হুদা। নির্বাচনের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় রাজধানীর চারদিকে গোলাগুলি, ককটেলসহ বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে সিইসি বলেন, ‘এমন ভোট আমরা চাইনি। এখনও চাই না।’
নূরুল হুদা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আমাদের নির্দেশ, এমন ঘটনা যদি ঘটে তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।’ নির্বাচনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রার্থী, ভোটার এবং বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান সিইসি। বলেন, ‘ভোটের সপক্ষে পরিবেশ যেন বজায় থাকে। তবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি’ বলে জানান তিনি।


