দাগি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিন

দাগি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিন

গণমাধ্যমকর্মীর সুরক্ষা

দাগি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিন

একজন সাংবাদিক, সংবাদকর্মী পেশাদার মানসিকতা রাখবেন সবখানে। কিন্তু সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা এই গণমাধ্যমকর্মীদের চিরশত্রু। সিটি নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন। খুব দ্রুত এসব দাগি আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজ কেন একটা চিহ্নিত গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি থাকবে? নিজেদের মুখোশ উন্মোচন হওয়ার ক্ষুব্ধতা থেকেই সন্ত্রাসীরা যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। এতে অন্য কোনো কারণ নেই। আমরা জেনেছি, নির্বাচনের দিন শনিবার ছয় সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

নোংরামির চূড়ান্ত নজির স্থাপন করেছে চিহ্নিত একটি ছাত্র সংগঠনের নামাবলি গায়ে পরা সন্ত্রাসীরা। সাংবাদিকদের অপরাধ তারা ভোট কেন্দ্রের প্রকৃত চিত্র দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। সাংবাদিকদের ওপর প্রতিহিংসাপরায়ণতা ঘটেছে গত সোমবারও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ভাগ্যজনকভাবে অপরাধীদের সামাল দেওয়ার বদলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে ভূমিকা রেখে নিজেদের মুখেও চুনকালি লাগিয়েছে। সাংবাদিকদের দেওয়া অভিযোগ না নিয়ে তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অভিযোগ আমলে নিয়েছে। এ অধঃপতিত মনোভাব অবাঞ্ছিতই শুধু নয়, গর্হিত ও নিন্দনীয়। নির্বাচনে সাংবাদিকরা কোনো পক্ষ নন। কোনো দল কিংবা প্রার্থীর বাড়া ভাতে মই দেওয়ার দায়িত্ব তারা পালন করেননি। সাংবাদিকরা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে।

দেশের সংবিধানেও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পেশিশক্তির পূজারি অন্ধ গহ্বরের কীটেরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে শুধু নিজেদের আসল পরিচয় তুলে ধরেনি, নির্বাচন কমিশন, সরকার ও পুলিশের জন্যও বিড়ম্বনা ডেকে এনেছে। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনে কীভাবে পেশাদার সন্ত্রাসীরা নেতা-কর্মী হওয়ার সুযোগ পায় বড় মাপে সে প্রশ্নও সামনে এনেছে। এরইমধ্যে দলমতনির্বিশেষে সব সাংবাদিক সংগঠন সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে আইওয়াশ হিসেবে ওই ছাত্র সংগঠনটি চিহ্নিত এক সন্ত্রাসীকে ‘সাময়িক’ বহিষ্কার করেছে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় মনে হয়েছে তাদের দায় আইন মান্যকারীদের প্রতি নয়, বরং সন্ত্রাসীদের কাছে তাদের টিকি বাঁধা পড়ে আছে।

হামলাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সে নজিরই রাখছে। এ আচরণ দুর্ভাগ্যজনক এবং নিজেদের মুখে চুনকালি লাগানোর নামান্তর। সরকার নিজেদের স্বার্থেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আমরা আশাবাদি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *