আল্লাহর গজবের ভয়ে মসজিদে চীনা প্রেসিডেন্ট!

আল্লাহর গজবের ভয়ে মসজিদে চীনা প্রেসিডেন্ট!

আল্লাহর গজবের ভয়ে মসজিদে চীনা প্রেসিডেন্ট!

খবরটি সত্য নয়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: যদিও তারা হিজাব নিষিদ্ধকরণসহ মুসলমানদের নির্যাতনের নানারকম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, এরপরও করোনা ভাইরাসের ভয়ে, আতঙ্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ভালোবাসা পেতে মসজিদে গিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। একটি ভিডিওতে থেকে  চীনা প্রেসিডেন্টের মসজিদে প্রবেশ করে দুআ চাওয়ার খবর প্রচার করেছে কিছু মিডিয়া।  কিন্তু এই খবরটি অনেক পোর্টালে ছেপেও আবার ফেলে দেয়া হয়েছে।

নিচে বাস্তব তথ্যনির্ভর কিছু লিঙ্ক দেয়া হলো-

১. ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সিজিংপিং উত্তরাঞ্চলী নিংসিয়া প্রদেশের একটি মসজিদ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। চাইনিজ নিউজ এজেন্সি CCTV তাদের ইউটিউব চ্যানেল আপলোড করে ২১ জুলাই ২০১৬ সালে। লিংক: (https://youtu.be/lfzeGMg0Sc4)

এদিকে নিউজ প্রচার করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে চীনের প্রেসিডেন্ট মসজিদে গিয়ে দোয়া চাইলেন। আর পোর্টালগুলো যেই লিংক দিয়েছে তা রিআপলোড ২০২০ ফেব্রুয়ারী ৫ তারিখ।

২. ২০১৫ সালে মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লহ আহমাদ বাদাওয়ী চীন সফরে গিয়ে বেইজিং এর নানসিয়া প্রো মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেছিলেন। যার ভিডিও AP Archive ইউটিউব চ্যানেল আপলোড করে ২১ জুলাই ২০১৫ সালে। লিংক: (https://youtu.be/moQ6wDEc6ow)

এদিকে করোনাভাইরাসে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আরো ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে চীনের মূলভূখণ্ডেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বুধবার নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৬৯৪ জন। এ নিয়ে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৮,০১৮ জন।

এদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো উহান থেকে দ্রুত তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। অধিকাংশ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে হুবেই প্রদেশের এই শহরে।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।

প্রসঙ্গত, চীনে দুই কোটি ৩০ লাখ মুসলমানের বসবাস এবং পশ্চিমাঞ্চলের নিংজিয়া প্রদেশে গত কয়েকশ বছর ধরে মুসলিমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বসবাস করছে। হুই মুসলিমরা যদিও তাদের ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে স্বাধীন কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং এলাকায় উইঘুর মুসলিমরা সরকারের দিক থেকে বেশ চাপের মধ্যে আছে।

দেশটির মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন পশ্চিমাঞ্চলে জিনজিয়াং-এ সরকারের কড়া নজরদারি রয়েছে এবং জনসমাগমের এলাকায় মুসলিম মহিলাদের নেকাব ব্যবহারের কারণে অনেকে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, হাজার-হাজার উইঘুর মুসলিমকে চীন সরকার জোর করে ‘শিক্ষা কেন্দ্রে’ পাঠিয়েছে। সেখানে আটককৃতদের নিজের ধর্ম ত্যাগ করতেও বাধ্য করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *