দুই দিনব্যাপী ঢাকা পানি সম্মেলন ঢাকায

দুই দিনব্যাপী ঢাকা পানি সম্মেলন ঢাকায

নিজস্ব প্রতিবেদক  ● টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তাসহ এসডিজির ৭টি অভিষ্ঠ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২৯-৩০ জুলাই দুই দিনব্যাপী ঢাকা পানি সম্মেলন-২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ডেল্টা কোয়ালিশনভুক্ত অঞ্চলের ২৭টি দেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ৮২ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপদ পানির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১টি লক্ষ্য সরাসরি পানির সাথে সম্পৃক্ত। সেটি হচ্ছে এসডিজি লক্ষ্য-৬ এবং তা বাস্তবায়নে লক্ষ্য ৬-এর অধীনে ছয়টি পৃথক টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্যও আটটি ইন্ডিকেটর নির্ধারণ করা হয়েছে। এসডিজি-৬ ছাড়াও এসডিজির আরও ৭টি লক্ষ্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পানি ব্যবস্থাপনা ও সুপেয় পানি সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত।

দুই দিনব্যাপী পানি সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- টেকসই উন্নয়নে পানি। সম্মেলনে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পানির গুণগতমান, ব্যবহার এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার উপর ৪টি কারিগরি আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এ আলোচনা পর্বসমূহে ৮টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করা হবে। সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রণকারী দেশগুলোর সাথে সুপারিশক্রমে ঢাকা পানি ঘোষণাপত্র গৃহীত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার সুপেয় পানি সরবরাহ ও ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণে দেশের সকল খাস পুকুর উদ্ধার করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে যাতে আর কোন জলাবদ্ধতা না হয় সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও ঢাকার আর জলাবদ্ধতা হবে না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, গত বুধবার ঢাকায় অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমনটি হবে এটা আমাদের ধারণার মধ্যে ছিল না। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তাদের ছিল।  মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তা সিটি করপোরেশনের আয়ত্বের মধ্যে থাকে। এর বেশি হলে তা সিটির সক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা কমিশনে আমাদের প্রস্তাবনা আছে। এ সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি হলে ৩ ঘণ্টার মধ্যে পানি সরে যাবে। সেই প্রস্তুতি রয়েছে। আগামীবছর থেকে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না, এ কথা বুধবার মন্ত্রী বলেছেন। তার এই বক্তব্যটি অনেকে ভিন্নভাবে নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি একজন প্রকৌশলীও। সেজন্যই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই কথা বলেছি। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এই সিজনে যেমননি বৃষ্টিপাত হয় সেইরকম নরমাল কনডিশন হলে এমন পরিস্থিতি হতো না।

বুধবার যা ঘটেছে সেটা একটা আকস্মিক ঘটনা। এর পুনরাবৃত্তি আর হতে দেবেন না। এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বুধবার যে বৃষ্টি হয়েছে সেটি রেকর্ড। আমি এরআগেও মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু সচিবালয়ে কখনো পানি ঢুকতে দেখিনি। বুধবার সচিবালয়ে পানি ঢুকেছে। সুতরাং এদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে কারোই প্রস্তুতি ছিল না। থাকার কথাও না। তবে সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যথেষ্ট ভাল প্রস্তুতি এবার ছিল। সে কারণেই প্রবল বর্ষণের পরও ৩ ঘণ্টায় পানি সরে গেছে। সিটির ড্রেনেজ ব্যবস্থাও সচল ছিল। তা না-হলে এতো তাড়াতাড়ি পানি নিষ্কাশন হতো না। তারপরেও আমাদের  সকলের সচেতন হতে হবে। কারণ, যে হারে পলিথিন এবং ময়লা ড্রেনে ফেলা হয়। এতে ড্রেন ব্লকেজ হয়ে যায়। এ থেকে উত্তরণে জনসচেতনাও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ঢাকার পানি সমস্যা সমাধানে আমরা যমুনা থেকে পানি আনার পরিকল্পনা করেছি। এটা বৈজ্ঞানিক উপায়ে সোধন করা হবে। ঢাকার বুড়িগঙ্গার পানি পরিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ট্যানারি সরিয়ে ফেলার কারণে পানির মান কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ সময় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমদ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব একরামুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *