বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় তাড়াইল ইসলাহী ইজতেমায় আখেরী মোনাজাত
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নেক এবং এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইহকালে শান্তি, পরকালে মাগফেরাত এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের বেলংকা জামিয়াতুল ইসলাহ ময়দানে আয়োজিত তিন দিন ব্যাপী ইসলাহী ইজতেমা।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় এই আখেরি মোনাজাতে লাখ মুসল্লি অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলিফা, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
মোনাজাতের আগে ইসলাহী বয়ানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তাআলাকে সবসময় অন্তরে রাখতে হবে। অন্তরে এক মাত্র আল্লাহকে জায়গা দিতে হবে। যদি তুমি সর্বদা আল্লাহকে অন্তরে রাখতে পারো, তাহলে তোমার শান্তি আসবে, এই ইজতেমায় আসার মূল লক্ষ্য হাসিল হবে। জান্নাত তোমার জন্য অনিবার্য হবে।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবদান উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারমজান বলেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মপ্রাণ দেশ। এদেশের যুবকের ধর্মপ্রেমী। ইসলাম, ধর্ম ও দ্বীনের প্রতি এতো টান অন্যান্য দেশের যুবকদের মাঝে কমই দেখা যায়। কিন্তু পরিকল্পিত ভাবে কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের দেশের উন্নতি সহ্য করতে না পেরে আমাদের যুব সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মদ-নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছিলো। এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি নির্মূলে যে অবদান রেখেছেন, বাংলাদেশ মানুষ তা চিরকাল মনে রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি উলামায়ে কেরামে ভালোবাসেন জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আমাদের কামাল ভাই, ইসলাম ও কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্য কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সব মানুষের নেতা। বিশেষ করে তিনি উলামায়ে কেরামের নেতা।
মোনাজাতের আগে কান্নাই একমাত্র দুআর ভাষা দাবি করে মাওলানা সাইয়্যিদ আসয়াদ মাদানী (রহ.)-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন বলেন, দুআ সমস্ত ইবাদতের মূল, কিন্তু দুআর কোন ভাষা নেই, একমাত্র কান্নাই দুআর ভাষা। দুআ করার সময় শিশুর মত কাঁদবে। যা কিচ্ছু চাওয়ার কেঁদেকেঁদে আল্লাহর কাছে চাইবে। অবশ্যই আল্লাহ দুআ কবুল করবেন।
মোনাজাতে আল্লামা মাসঊদ যখন, ইয়া রব, ইয়া রব, মালিক, ও মালিক, ক্ষমা করো, রহম করো, কবুল করে নাও, কবুল করে নাও বলে বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, তখন উপস্থিত লাখ মানুষের কান্নার আওয়াজে ভারী হয়ে উঠেছিল তাড়াইলের আকাশ-বাতাস।


