জঙ্গিবাদ দমনে আল্লামা মাসঊদের ফতোয়া স্মরণীয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গিবাদ দমনে আল্লামা মাসঊদের ফতোয়া স্মরণীয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গিবাদ দমনে আল্লামা মাসঊদের ফতোয়া স্মরণীয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর অবদান কেউ ভুলতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই আল্লামা মাসঊদের ফতোয়ার কথা মনে আছে। একটা সময় কোথাও কোথাও মানুষ হত্যা করেই আইএসের নাম দেয়া হতো। শোলাকিয়ায়, হলিআর্টিসানসহ অনেক জায়গায় অনেকে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হয়েছেন। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। দেশের আলেম উলামা, মাদরাসা শিক্ষক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন। আলেমগণ এগিয়ে এলেন। আল্লামা মাসঊদ একলক্ষ আলেমের স্বাক্ষর সম্বলিত ফতোয়া দিলেন। মাদরাসা শিক্ষকগণ স্মরণকালের মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আমরা জঙ্গিবাদ চাই না, শান্তিতে পড়াশোনা করতে চাই।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের বেলংকা জামিয়াতুল ইসলাহ ময়দানে আয়োজিত ইসলাহী ইজতেমায় আখেরী মোনাজাতের আগে বিশেষ আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এসব কথা বলেন।

একটা কঠিন সময়ে আল্লামা মাসঊদের জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়া বিশ্বে নাড়া দিয়েছিল। এ ফতোয়ার কারণেই বাংলাদেশ সিরিয়া হয়নি। শোলাকিয়ার হুজুরের কারণেই জঙ্গিবাদের অপবাদ থেকে কলঙ্কমুক্ত হয়েছেন দেশের আলেমসমাজ। মাদরাসা জঙ্গিবাদমুক্ত। আমি নিজে থেকে প্রমাণ করে দেখিয়েছি কওমী মাদরাসায় জঙ্গিবাদ চর্চা হয় না। জঙ্গি নেই। এটা শোলাকিয়ার হুজুরেরই বড় অবদান।

তিনি বলেন, কওমী মাদরাসাকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়ানো ছিল একটি চক্রের ষড়যন্ত্র। তবে দেশকে তারাই ভালোবেসে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ষড়যন্ত্র নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ধর্মপরায়ণ মানুষ। নামাজ পড়েন, তাহাজ্জুদ আদায় করেন। কুরআন তেলাওয়াত করেন সকালে। তিনি সবসময় আলেমদের পাশে আছেন। তিনিই আলেমদেরকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কওমী মাদরাসার স্বীকৃতিতে জটিলতা ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কওমী মাদরাসার স্বীকৃতি প্রদানের জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। কওমী মাদরাসা স্বীকৃতি পেতে আল্লামা মাসঊদ অনেক সহযোগিতা করেছেন। আলেম উলমাাগণ সবাই একত্র হয়েছেন। এরপরই স্বীকৃতি এসেছে।

হৃদয়ে ইসলাম ধারণ করেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আলেমদের এখন মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মাদকব‌্যবসায়ীদের পথ বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা মাদকের সাপ্লাই হ্রাস ও আমদানী বন্ধ করবার চেষ্টা করছি। আলেমগণ পারেন মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তোলে ধরতে। আমরা আলেমদের সহযোগিতা চাই। আমরা মাদক ও সন্ত্রাস থেকে নিষ্কৃতি চাই।

দেশে ধর্ম নিয়েও ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা নবীজীর উম্মত সত্য, কুরআনকে মাধার ওপর ধারণ করি, বিশ্বের অনেক দেশে আমি গিয়েছি। কিন্তু এ দেশের মানুষের মতো শান্তিপ্রিয় মানুষ আর কোথাও নেই। কিন্তু ধর্ম নিয়ে সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদেরই। কারণ, আমরাই আল্লাহমুখী ও মসজিদমুখী মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *