উহান হাসপাতাল পরিচালকও করোনাভাইরাসে মারা গেলেন

উহান হাসপাতাল পরিচালকও করোনাভাইরাসে মারা গেলেন

উহান হাসপাতাল পরিচালকও করোনাভাইরাসে মারা গেলেন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: আগে মারা পড়েছিলেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্বয়ং। এবার মারা গেলেন হাসপাতাল পরিচালকও। ভয়াবহ করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে নির্ঘুম রাত কাটছিলো উহানের উচ্যাং হাসপাতালের পরিচালক লিউ ঝিমিংয়েরও। এ লড়াইয়ে নেতৃত্বে থেকে সবাইকে প্রেরণা যোগাচ্ছিলেন তিনি।

কিন্তু প্রাণঘাতী ভাইরাস একসময় জেঁকে বসলো তার শরীরেও। অনেক রোগী তার হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরলেও পারলেন না লিউ। হেরে গেলেন তিনি, করোনাভাইরাস কেড়ে নিয়েছে লিউ ঝিমিংয়ের প্রাণও।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়রি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনের কোনো হাসপাতালের প্রধান হিসেবে প্রথম প্রাণ গেছে লিউ’র। গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এই হাসপাতালেরই লিউ ফ্যান নামে ৫৯ বছর বয়সী এক নার্স মারা যান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।

উচ্যাং হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, লিউ’র মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার সহকর্মী চিকিৎসকরা। একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, লিউ বেশ সুস্থ-সবল মানুষ ছিলেন। করোনাভাইরাস তাকেও কেড়ে নেবে, ভাবতে পারছেন না কেউ।

তবে তার মৃত্যু নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি উচ্যাং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে নার্স লিউ ফ্যানের ‍মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, উহানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিলে ওই নার্সও তা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভাইরাসে সংক্রমিত হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান তিনি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ড. লিউ’র আগে চীনে হাই-প্রোফাইল চিকিৎসক হিসেবে মারা যান উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. লি ওয়েনলিয়াং। ভাইরাসটি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। লি ওয়েনলিয়াং সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সার্সের মতো মহামারি আকার ধারণ করতে পারে এই নতুন ভাইরাস। তবে তখন তার সে কথায় পাত্তা দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাল্টা তাকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে হুমকি দেয়া হয়।

এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। চীনের বাইরে হংকং, তাইওয়ান, জাপান, ফিলিপাইন ও ফ্রান্সে একজন করে মোট পাঁচজন মারা গেছেন।

এছাড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭১ হাজার ৪৪০ জন। এর মধ্যে শুধু চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ৫৪৮। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৬১০ রোগী। বাণিজ্য, ব্যবসা আর পণ্য পরিবহনে গতি কমায় চীনসহ বিশ্ব অর্থনীতিও এখন করোনা আক্রান্ত হয়ে ধুঁকছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *