ওমরা হজ ও করোনাভাইরাস আতঙ্ক

ওমরা হজ ও করোনাভাইরাস আতঙ্ক

ওমরা হজ ও করোনাভাইরাস আতঙ্ক

মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী :: করোনাভাইরাস আতঙ্ক এমনভাবে শুরু হয়েছে, ওমরার ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেল। শুধু বাংলাদেশের নয়। বিশ্বের সকল ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। আমার মনে হয় এই প্রথম, টোটাল বিশ্বের ওমরার হাজিদের আসাকে মুলতবি করেছে সৌদি সরকার। এমনকি ভিসা পাওয়ার পরেও হাজিগণ যেতে পারছেন না। কেউ কেউ তো ইহরাম পরেও এয়ার পোর্ট থেকে ফেরত এসেছেন। ফ্লাইটে উঠতে পারেননি।

এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। সব দেশের ফ্লাইটকে এক যোগে বন্ধ করে দেওয়া। সব দেশের ভিসাপ্রাপ্ত হাজিদের নিষেধাজ্ঞায় নিয়ে আসা।

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক আসলেই সব দেশে কাজ করছে। সব মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে তো শুধু চীনে শুরু হয়। এখন তো দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য দেশেও এই ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। আস্তে আস্তে বিভিন্ন দেশে এটা ছড়িয়ে পড়ছে।

ইতোপূর্বে এরকম মহামারি আমরা আর দেখিনি। এক দেশ থেকে অন্যান্য দেশে ছড়াতেও আমরা কখনো দেখিনি।

বড় চিন্তার বিষয় বন্ধু, যা কোনদিন না হয়েছে, তাই এখন হচ্ছে। যেটার কল্পনা আমরা করিনি, সেটা এখন আমাদের সামনে হাজির হচ্ছে।

আসলে কি জানেন? জলে- স্থলে যে সব বিপদ- আপদ মানুষের উপর আসে, সে সব মানুষের হাতের কামাই।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ” যাহারাল ফাসাদু ফিল বাররি ওয়াল বাহরি, বিমা কাছাবাত আইদিন্নাছ”

জলে – স্থলের এই বিপর্যয় মানুষের কৃত কর্মের ফল।

আজ যে বিপর্যয় শুরু হয়েছে, সবই মানুষের নাফরমানীর কারণে। মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, সরাসরি আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী করতে থাকে, তখনই আল্লাহ এসব বিপদ – আপদ মানুষের উপর চাপিয়ে দেন, যাতে মানুষ ফিরে আসে সে সকল নাফরমানী থেকে।

দেখুন! আজ বিশ্বব্যাপি আল্লাহর নাফরমানী চলছে। প্রকাশ্যে আল্লাহ তায়ালার হুকুমের বিরুদ্ধাচারণ করা হচ্ছে। অন্যায়- জুলুমে ভরে গেছে বিশ্বটা।

অসহায় মানুষের উপর জুলুমের খড়গ। যেদিকে তাকাবেন, সেখানেই অসহায় মানুষের উপর জুলুম – অত্যাচার- নির্যাতনে সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

মাজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াবার যেন কেহ নেই। অসহায় মানুষের আর্তচিৎকারে আকাশ- বাতাস ভারী হচ্ছে।

পৃথিবীর যে দেশে যাবেন, সেখানেই মাজলুম মানুষের আহাকার, সেখানেই প্রকাশ্যে আল্লাহর নাফরমানী।

বহু জায়গায়, মানুষকে অন্যায় ভাবে খুন করা হচ্ছে, ঘরবাড়ীতে অগ্নি সংযোগ, এমনকি মানুষের ইবাদাত খানার উপর হামলে পড়ছে জালিমের দল।

এ অবস্থায় মহান আল্লাহর ধরা কিন্তু সাংঘাতিক। তিনি প্রথমত জালিমকে সুযোগ দেন। কিছুই বলেন না। কিন্তু এক সময় তিনি জালিমের গোষ্ঠীকে চেপে ধরেন।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ” ইন্না বাতশা রাব্বিকা লা শাদীদ” আল্লাহর ধরা বড় শক্ত ধরা।

মহান আল্লাহ যদি কোন কওমের অমঙ্গল চান, তাহলে কেউ কিন্তু ঠেকাতে পারেনা।

তিনি যদি সকল বিশ্বকে ধরে ফেলেন, কারো কিছু করার থাকবে না।

এজন্য বন্ধু আসুন! আমরা যেখানেই থাকি, তওবা – ইস্তেগফার করি, আল্লাহর নাফরমানী ছেড়ে দেই। তাঁর হুকুমের তাবেদারী করি।

মনে রাখবেন, বন্যা আসলে কিন্তু পীরের বাড়ি বাদ থাকেনা। আল্লাহর আজাব আসলে সকলেই কিন্তু পেঁচিয়ে যাবে। এজন্য সময় থাকতে সতর্ক হই।

হে দয়াময় আল্লাহ! তুমি আমাদের তওবা কবুল কর। আমাদের কে বালা- মুসিবত থেকে হেফাজত কর। বিশ্ববাসীকে এই বিপদ থেকে নিরাপদে রাখ। আমিন ছুম্মা আমিন।
লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *