স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না খাদ্য বিতরণের ক্ষেত্রে। এমনকি দশ টাকার চাল বিতরণের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে মানুষকে জমায়েত করেই দেয়া হচ্ছে চাল। ভয়াল করোনার থাবা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, অনুরোধ করা হয়েছে ঘরে থাকবার জন্য। জমায়েত করে ত্রাণ বিতরণ বা দশ টাকার চাল বিতরণের এমন দৃশ্য মানুষকে সচেতন তো করছেই না বরং সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় যেনো কাজ করছে।
সবধরনের ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ইতোমধ্যেই ১৭ দিনের সাধারণ ছুটির পর আবার তা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পোশাকশিল্পের মানুষরা হেঁটে হেঁটে অফিস পর্যন্ত এলেও লাভ হয়নি। বেতন হয়নি। ভোগান্তি মেনেই তাদের আবার বাড়ি ফিরতে হবে।
ঘরে-বাইরে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ একজনের সঙ্গে আরেকজনের দূরত্ব রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক দূরত্ব নজরদারিতে রাখার জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার পরও ঝুঁকি কমছে না। বিশেষত ত্রাণসামগ্রী নেওয়ার সময় গরিব-দুঃখী মানুষের অসতর্ক ভিড় সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নির্দেশনায় বাদ সাধছে। দিনে আনে দিনে খায় এমন জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়ায় মহাসংকটে পড়েছে। ফাঁকা রাস্তায় কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি থামলেই ঘিরে ধরছে অভাবী মানুষ। কেউ গাড়িতে এসে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পণ্যসামগ্রী বিতরণ করলে হুড়োহুড়ি করে শক্তিমানেরা কেড়ে নিচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে থাকা অধিকাংশ মানুষ কিছুই পাচ্ছে না। অনেকে নিজের বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ দেওয়ার সময় মানুষের জটলার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ না দিয়ে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেকেই তা মানছে না।
জমায়েত করে ত্রাণ বিতরণের বিষয়টি সরকার নিরুৎসাহিত করলেও অতি উৎসাহীরা তা উপেক্ষা করছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত বন্ধের কারণে কর্মহীন মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে কার্যত বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে। ত্রাণের লাইনে হুড়োহুড়ি করে লঙ্ঘন করা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব। দীর্ঘ ত্রাণের লাইন কিংবা হুড়োহুড়ি করে ত্রাণ নেওয়ার মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এ অব্যবস্থাপনা রোধে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাবের মাধ্যমে তালিকা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অভাবীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মূল উদ্দেশ্য সফল হবে এবং যত্রতত্র ভিড় করে ত্রাণ নেওয়ার বিশৃঙ্খলা বন্ধ হবে।
আমরা আশা কররেবা, অন্তত যারা ত্রাণ বিতরণ করবেন, নিজেরা সচেতন থাকবেন। ভিড় করবেন না। দেশের সর্বত্র কর্মহীন অবস্থা গরিব ও নিম্নবিত্তদের জীবনে সংকট সৃষ্টি করেছে- তা কষ্টের। তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তবে গা ঘেঁষে নয়। এ প্রেক্ষাপটে ত্রাণ বিতরণে সরকারকে আরও যত্নবান হতে হবে। লোক জমায়েত না করে ত্রাণ বিতরণ না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সঠিক তালিকা করে তাদের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিন।


