জিকির; আত্মার পরিশুদ্ধি, দিলের প্রশান্তি
মুহাম্মদ আইয়ূব : আজ পবিত্র রমজানুল মুবারকের রহমতের দ্বিতীয় দিন। পাথেয়–এর পাঠকদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতেরঅনাবিল সুখের দারুণ এক পাথেয় নিয়ে আমি বান্দা আজ হাজির আপনাদের সামনে। রহমতের এই দিনে আমি আপনাদেরএক এমন পাথেয়র সন্ধান দিব, যা সাথে করে আপন প্রভুর সাথে নিরবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক গড়তে পারবেন।যে সম্পর্কের নেটওয়ার্ককখনোই ডিসকানেকট হবেনা ইনশাআল্লাহ। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। আমি আপনাদেরকে জিকিরের মত মহা মূল্যবান সম্পদেরকথা বলতে চাচ্ছি আজ। রহমতের দিনগুলোতে অবারিত রহমত পেতে জিকিরের চেয়ে গুড আইডিয়া আর কি হতে পারে!
আত্মিক প্রশান্তি লাভের জন্য অনেকে অনেক কিছু করেন। মুভি দেখা, নাটক দেখা, উপন্যাস পড়া, ফেসবুক ইউটিউবে জীবনউৎসর্গ করা, সিগারেট, বিড়ি, মদ, গাঁজা, ইয়াবা সেবন, ঘুম, গল্প, আড্ডা, মাস্তি আরো কত কি! ফলাফল? জিরো। মন প্রশান্ত হয়না। হলেও খানিক বাদে তা কর্পূরের ধুঁয়ার মত উড়ে যায়। আর জিকির; আত্মার পরিশুদ্ধি, দিলের প্রশান্তি, 100% গ্যারান্টি।এবিষয়ে আমি বলবনা বলবেন স্বয়ং আল্লাহ পাক।
১। ‘জেনে রাখ,আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।’ {সূরা রা‘দ,আয়াত নং২৮}
মজা কিন্তু এখানেই শেষ নয় পাঠক! এই দুনিয়া স্বার্থপরদের স্বর্গ। ‘যার জন্য চুরি করলাম সে–ই বলে চোর’ এই হচ্ছে মাটিরদুনিয়ার নীতি। এখানে কেউ কারো নয়। অথচ এর ঠিক উল্টো হচ্ছেন মহান মাওলা। দেখুন তিনি কি বলেন–
২। ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর,অকৃতজ্ঞ হয়োনা’ {সূরাবাক্বারা, আয়াত নং ১৫২}
৩। ‘আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ {সূরা আনফাল,আয়াত নং ৪৫}
মহানবীর (সাঃ) ভাষায় জিকিরের গুরুত্ব:
১। একবার হযরত মুয়া‘য ইবনে জাবাল (রাঃ) রাসূল (সাঃ) কে প্রশ্ন করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ! সর্বোত্তম আমল কোনটি? রাসূলসাঃ বললেন, মৃত্যুর সময় যেন তোমার জিহবা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে। ]মু‘জামুল কাবীর, ১৮১]
২। রাসূল সাঃ বলেছেন, ফরজ নামাজের পরে কয়েকটি কালিমা এমন আছে যেগুলো পাঠকারী ব্যর্থ হয়না। সে কালিমাগুলোহচ্ছে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ‘,৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ‘, ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার‘। [মুসলিমশরীফ, হাদিস নং ১৩৭৭]
আচ্ছা জিকির না করলে কি হয়?
ও বাপরে বাপ! ভাবছিলাম রহমতের দিনগুলোতে শুধু সুসংবাদ দিয়েই যাব! দুঃসংবাদের চিন্তা তো করিনি!!
কিন্তু কি আর করার, প্রশ্ন যখন এসেই পড়েছে শুনুন তাহলে জিকির না করলে কি হয়? তাহলে দেখ আল্লাহ পাক কি বলেন।
১। ‘যে আমার জিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায়উত্থিত করব।’ {সূরা ত্বহা, আয়াত নং ১২৪}
২। ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন– সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর জিকির হতে গাফেল না করে। যারা একারণে গাফেল হয়, তারাই তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ।’ {সূরা মুনাফিকূন,আয়াত নং ৯}
প্রিয় পাঠক! আসল নেটওয়ার্কে যেন কোন প্রবলেম না হয় এই আবেদনে আজ এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


