শ্রেষ্ঠ ধর্মে মেহমানদারি
মুহাম্মাদ আইয়ুব : যারা বলে ইসলাম তরবারির জোরে প্রচারিত হয়েছে তারা আসলে ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানও রাখেনা। তারাতো কেবল ইউরোপিয়ান বুদ্ধিজীবীদের শিখানো বুলি কপচায়। আজ আমি ইসলাম ধর্মের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার এক মজার গল্প শুনাবো। ইসলামে আতিথেয়তা এবং মেহমানদারির খুব গুরুত্ব রয়েছে। এক্ষেত্রে ইসলাম ধর্ম-বর্ণ, জাত-পাত, অঞ্চল-দেশ-মহাদেশের কোন বাছ বিচার করার অনুমতি দেয়না। বরকতময় নববি যিন্দেগীর মজার একটি ঘটনা বলার লোভ সামলাতে পারছিনা।
★ কোন এক রাতের ঘটনা। একবার এক ইহুদি নবিজির বাড়িতে মেহমান হল। সারওয়ারে দোজাহানের সাঃ ঘরে পাকানো খাবার খেতে খেতে সে একাই সব সাবাড় করে দিল। রাসুল সাঃ হাসিমুখে তার আপ্যায়ন পর্ব শেষ করলেন। এবার ঘুমের পালা। দয়ার সাগর নবী তাঁর মুবারক বিছানায় ইহুদিকে শুইয়ে দিলেন।
আজকের ওয়ারিসে নবীর দাবিদারদের বিধর্মীরা ভয় পায়, অথচ পেয়ারে নবীকে দেখলে তখনকার কাফের মুশরিকরা আমিন আমিন জয়ধ্বনিতে পুরো পরিবেশ মুখরিত করে তুলত।
প্রিয় পাঠক! আপনি একটু ভাবুন তো ব্যাপারটা কেমন? লম্বা লম্বা বয়ান, গল্প,কেচ্ছা-কাহিনীর কি দরকার? ইসলামকে জানতে হাজার হাজার পৃষ্ঠা উল্টিয়ে কি লাভ যদি আকাশের মত উদার, সাগরের মত বিশাল সমুদ্রকে আমি কলসির ভেতর ঢুকানোর চেষ্টায় সারাটি জীবন ব্যয় করে দিই। ইসলামকে বুঝতে,নবিজির আদর্শকে জানতে এমন দুই একটি ঘটনা জানাই তো যথেষ্ট। আজকের ওয়ারিসে নবীর দাবিদারদের বিধর্মীরা ভয় পায়, অথচ পেয়ারে নবীকে দেখলে তখনকার কাফের মুশরিকরা আমিন আমিন জয়ধ্বনিতে পুরো পরিবেশ মুখরিত করে তুলত।
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত সরূপ প্রেরণ করেছিলেন। তাইতো মহানবী আরবের জাজাবর, বেদুঈন, হিংস্র, জাহেল টাইপের লোকদের মন জয় করে ফেলেছিলেন সেই নবুওয়াত প্রাপ্তির কত আগে। আর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর আরবের মত কঠিন বৈরী পরিবেশে মাত্র ২৩ বৎসরের ব্যবধানে সোয়া লক্ষের বিশাল এক জীবন উৎসর্গকারী পবিত্র দল গঠন করে ফেললেন। কি বিষ্ময়কর! তাই না? এসব সম্ভব হয়েছিল কেবলমাত্র রাসুলের (সাঃ) কোমলতা, মানবতা, আতিথেয়তা আর মানবকল্যানে নিবেদিত প্রাণ হওয়ার কারণে। আর আজকে সেই সে নবীর ওয়ারিসরা(?) শুধু মুজাহিদ হতে চায়। চোখে শুধু জিহাদের আয়াত পড়ে। মক্কী জিন্দেগী তাদের কাছে একদম গৌণ! জিহাদ জিহাদ জিহাদ চাই! জিহাদ করে বাঁচতে চাই! আল্লাহ পাক রক্ষা করেছেন যে, দু’ছুর ইবনে সা’লাবা এই যুগে আসেননি। নইলে তার কল্লা আর ধড়ে থাকার চান্স পেতনা। বোনাস হিসেবে নাস্তিক, মুরতাদ বিশেষণে বিশেষিত হতে হত। বাঙালীদের মত অতিথিপরায়ণ, নরম দিল, হিতৈষী জাতী কপালে জুটা সত্ত্বেও আজকে মহা নবীর (সাঃ) ওয়ারিসরা(?) দিগ্বিদিক ঘুরপাক খাচ্ছে। দিনে দিনে আশ্রয়স্থল সংকুচিত হয়ে আসছে! আফসোস যতই করি ততই কম হয়!! আফসোসেরও হক্ব আদায় হয়না!!! মূল ঘটনা থেকে অনেক দূরে চলে আসলাম। আচ্ছামত উদরপূর্তি করে খেয়ে ইহুদি বাবু বেশ বেকায়দায় পড়ে গেল। পেটে মেঘ ডাকতে শুরু করল। অতঃপর দমকা হাওয়ার সাথে প্রবল বর্ষণ। ঝড়ের তান্ডবে সারারাত নির্ঘুম থেকে সকাল হওয়ার আগেই দে চম্পট।
সকাল বেলা নবিজি সবার আগে মেহমানের খোঁজ নিলেন। দেখলেন, মেহমান সাব উধাও আর বিছানা মুবারক নাপাকি দিয়ে ভরা। রাসূল সাঃ মেহমানের কষ্টের কথা ভেবে বিচলিত হয়ে পড়লেন, মনে মনে আফসোস করতে থাকলেন যে, আহা! বেচারা মেহমানের সারারাত না জানি কত কষ্ট হয়েছে! অতঃপর নাপাক বিছানা নিজ হাতে ধোয়া শুরু করলেন, ইত্যবসরে সাহাবারা হাজির। তাঁরা ঘটনার বৃত্তান্ত শুনে খুব চটে গেলেন, নবিজির সাথে কে ঘটিয়েছে এহেন কান্ড? প্রশ্নের পর প্রশ্ন। প্রতিশোধের স্পৃহা জেগে উঠল সবার মাঝে। মেহমানবান্ধব দয়ালু নবী সবাইকে শান্ত করছিলেন আর মেহমানের সারা রাতের কষ্টের দায় নিজের ঘাড়ে নিচ্ছিলেন। মজার কথা হল সেই ইহুদি পুরো দৃশ্য আড়াল থেকে অবলোকন করছিল। ইহুদি এবার নিজেকে আর সামলাতে পারলনা। সরাসরি মহানবীর কাছে যেয়ে ক্ষমা চাইতে থাকল এবং বিনা দাওয়াতেই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গেল।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


